প্রগতি ত্রিপুরা, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের পর্যটনকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনের মাধ্যমে যুবক ও যুবতীদের যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় করা যায় সে লক্ষ্যে রাজ্যে প্রমোফেস্ট-এর আয়োজন করা হচ্ছে।
গত বছরের প্রমো ফেস্ট-এর সাফল্যকে পাথেয় করে এবছর রাজ্যের ৬টি পর্যটন কেন্দ্রে দু’দিন করে প্রমোফেস্ট-এর আয়োজন করা হচ্ছে। এরফলে রাজ্যে পর্যটকদের আগমন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় মেলাঘরের রাজঘাটে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ইউনিটি প্রমোফেস্ট ২০২৫-এর ৫ম ইভেন্টের উদ্বোধন করে একথা বলেন।
পর্যটন দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, পর্যটন কেবলমাত্র বিনোদনের বিষয় নয়, এটি এমন ক্ষেত্র যার মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, সংগীত শিল্পীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পান।
তিনি বলেন, প্রতিবছর এ রাজ্যে যেন পর্যটকদের আগমন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় সেই উদ্দেশ্য ও সংকল্প নিয়ে পর্যটন দপ্তর কাজ করে চলেছে। ইউনিটি প্রমোফেস্ট-এর অর্থ ব্যক্ত করে পর্যটন মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান, জাতি-জনজাতির প্রতিটি অংশের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বিবেচনা করে এবছর থেকে ‘ইউনিটি’ শব্দ জুড়ে ইউনিটি প্রমোফেস্ট নতুন করে পথ চলা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ইউনিটি প্রমোফেস্টকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক শিল্পীদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশ আনন্দমুখর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। যার মাধ্যমে নীরমহল সহ রাজ্যের অন্যান্য পর্যটন ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে রাজ্য, বহিঃরাজ্য ও বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা উৎসাহিত হবেন।
এতে পর্যটকদের আগমন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি মানুষ ও মানুষের মধ্যে যোগসূত্র তৈরী হয়ে পারস্পরিক মেলবন্ধন স্থাপিত হবে। তিনি বলেন, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য হিসাবে এরাজ্যের জনগণের কাছে বর্তমান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন জাতি, জনজাতি গোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পোষাক পরিচ্ছদ, ভাষা, খাদ্য ইত্যাদিকে একসূত্রে গেঁথে এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলা।
তিনি পর্যটন দপ্তরের বিভিন্ন চলমান কাজকর্মের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ভ্রমন পিপাষু মানুষের আনন্দের সময় অতিবাহিত করার সুবিধার্থে নারিকেল কুঞ্জ ও ছবিমুড়াতে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। উদয়পুরের বনদুয়ারে ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সতীর ৫১ শক্তি পীঠের রেপ্লিকা তৈরীর কাজ চলছে।
এছাড়া উনকোটি জেলার সোনামুখীতে ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে। অনুষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, নীরমহল শুধুমাত্র ত্রিপুরার গৌরব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের একটা অমূল্য সম্পদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন ইউনিটি প্রমোফেস্ট সারা ভারতবর্ষসহ বিশ্বমানচিত্রে ত্রিপুরাকে এক পর্যটন হারে পরিণত করবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন পর্যটন দপ্তরের অধিকর্তা প্রশান্ত বাদল নেগী। রুদ্রসাগর উদ্বাস্তু ফিসারম্যান সমবায় সমিতির সভাপতি পবিত্র কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রমোফেস্ট অনুষ্ঠানে সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, সহসভাধিপতি পিন্টু আইচ, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, মেলাঘর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনামিকা ঘোষ পাল রায়, সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন সারদা চক্রবর্তী, পর্যটন দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা, সিপাহীজলা জেলার সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ বিজয় দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবী উত্তম দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।








