পানীয় জলের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নিম্নমানের চুন ও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে সরব এলাকাবাসী

প্রগতি ত্রিপুরা, ৬ নভেম্বর, ২০২৫: লংতরাইভ্যালি মহকুমার মাছলি বাজার এলাকায় সরকারি পানীয় জলের ট্রিটমেন্ট প্লান্টে চরম অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল গ্রামবাসী।

কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প “জল জীবন মিশন”-এর নামে চলছে প্রকট গাফিলতি ও দুর্নীতি—এমনই অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা বহু পুরনো এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আজ কার্যত ভেঙে পড়া এক দূষণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে অপরিশোধিত, আয়রনযুক্ত ও দূষিত জল সরবরাহ হচ্ছে প্রতিদিন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ট্রিটমেন্ট প্লান্টে নিম্নমানের চুন ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারের সরবরাহ করা এসব উপকরণ আসলে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত চুন ও রাসায়নিক পদার্থ, যা কোনোভাবেই পানীয় জলের পরিশোধনে উপযুক্ত নয়।

ফলে জলের মধ্যে ভারী লোহা ও ময়লা মিশে যাচ্ছে, আর এই জল ব্যবহার করে গ্রামবাসীরা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। “আমরা বাধ্য হয়ে এই জল খাচ্ছি, কিন্তু জানি না কোন বিষ পান করছি,”—বলেন এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই ট্রিটমেন্ট প্লান্টের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মধু বসাক ওরফে মনোজ কুমার বসাক নিয়মিত নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ করছেন এবং তাতে দপ্তর চোখ বন্ধ করে আছে।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য—বছরের পর বছর প্লান্টের কোনো সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিদর্শনই করা হয়নি। প্রথম দিকে জলের মান কিছুটা ভালো থাকলেও, বর্তমানে তা একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী।

আরও উদ্বেগের বিষয়, এই প্লান্ট থেকেই সরবরাহ হচ্ছে মাছলি বাজারসহ আশপাশের বহু গ্রামের পানীয় জল। মানুষজন জানিয়েছেন, এই জল খাওয়ার পর থেকে ত্বকের সমস্যা, পেটের ব্যথা, এমনকি জন্ডিসের মতো রোগেরও আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তবুও প্রশাসন নির্বিকার!

শুধু মাছলি বাজারই নয়—খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮২ মাইল, ধূমাচড়া, মনু—এইসব এলাকাতেও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টগুলির একই হাল। পরিশোধনের নামে চলছে প্রহসন, আর “জল জীবন মিশন”-এর কোটি টাকার প্রকল্পে সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন শুধু নোংরা জল ও প্রতিশ্রুতির প্রহসন।

গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সরজমিনে তদন্তে নেমে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। “সরকারের মুখে উন্নয়নের বুলি আর মাঠে নেমে দুর্নীতির গন্ধ—এই দ্বিচারিতা আর সহ্য করা যাবে না,”—বলেন এক ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে ‘জল জীবন মিশন’-এর নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও আজও বিশুদ্ধ পানীয় জলের দেখা নেই! মানুষের প্রশ্ন—এ কোন উন্নয়নের সুফল? নাকি দুর্নীতির কুফলই এখন গ্রামাঞ্চলের পানীয় জলের প্রতিচ্ছবি?

ত্রিপুরার প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—“জল জীবন মিশন” কি মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে, না কি বিষের জলে তাদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

Leave a Comment