প্রগতি ত্রিপুরা, ৫ নভেম্বর, ২০২৫: উন্নয়ন, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সনাতনে আস্থা এই তিনের সম্মেলনেই বর্তমানে সামাজিক প্রগতির কাজ হচ্ছে। আমাদের রাজ্যের সঙ্গে সারা ভারতেই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাসকে রক্ষা করে কাজ হচ্ছে। ধর্মাচরণ মানে শুধু ধর্মীয় আচার আচরণ নয়। ধর্মাচরণ হল যার যা কাজ তা সঠিক ভাবে দায়িত্বের সঙ্গে পালন করা।
গতকাল উত্তর তৈবান্দাল দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১৩৯ তম শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ রাস উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মোহনভোগ আর ডি ব্লক, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং শ্রীশ্রী শ্যামাচরন গোস্বামী সেবাশ্রম এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ, এম ডি সি পদ্মলোচন ত্রিপুরা, সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, জেলার এস পি বিজয় দেববর্মা মোহনভোগ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শ্রীবাস ভৌমিক, বিএসি’ চেয়ারম্যান বাসিল্য কুমার নোয়াতিয়া, মুড়াসিং হদার সভাপতি ও সম্পাদক সুনীল মুড়াসিং এবং ব্রজমোহন মুড়াসিং।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুড়াসিং সম্প্রদায়ের স্থানীয় প্রধান শঙখপদ মুড়া সিং। উদ্বোধকের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে হবে। ঐতিহ্য এবং মানুষের উন্নয়নের জন্য কোন প্রকার রাজনীতিকে বর্তমানে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সেই সঙ্গে বিকশিত ত্রিপুরাও গড়ে তুলতে হবে।
রাজ্যের জাতি জনজাতির সম্মিলিত উন্নয়নের মাধ্যমেই বিকশিত ত্রিপুরার কাজ সম্পন্ন হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের রাজ্যে জাতি জনজাতির মিশ্র সংস্কৃতি বিরাজমান। পূর্বে বিভাজনের রাজনীতির জন্য বিশেষ করে জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে উত্তর পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তির পরিবেশ তৈরী হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কেবিনেটের সিদ্ধান্তক্রমে ত্রিপুরাতে সমাজপতিদের ৫০০০ টাকা সাম্মানিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে জনজাতিদের উন্নয়নের নামে কুম্ভীরাশ্রু বর্ষিত হয়েছে। কিন্তু কেউ জনজাতিদের সদর্থক উন্নয়নের জন্য ভাবেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাস লীলা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রেম, ভক্তি ও ভালবাসার সম্মিলনই উৎসবের সার্থকতা। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা শ্রী শ্রী শ্যামাচান গোস্বামী সেবাশ্রমে রাস লীলা উৎসব প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন।








