ইতিমধ্যেই রাজ্য মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে : মুখ্যমন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা,৩০ অক্টোবর,২০২৫: গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে প্রাণীসম্পদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে প্রাণী পালন শুধুমাত্র কোন পরিবারের জীবিকা নির্বাহের উপায় নয়, বরং এটি রাজ্যের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নের একটি মাধ্যম। এক্ষেত্রে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অবদান অপরিসীম। আজ আর কে নগরে পশু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পশুপালন কলেজের ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কলেজের একাডেমিক বিল্ডিং-এর এক্সটেনশন কাজ, কলেজের ল্যাবরেটরির আধুনিকীকরণ এবং স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরেরও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাণী চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার, গবেষণা ও প্রাণী চিকিৎসায় উৎকর্ষতার লক্ষ্যে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। রাজ্যকে দুধ, ডিম এবং মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করেছে।

রাজ্য সরকার প্রাণীজ প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দুধ এবং ডিম উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য দপ্তর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দুগ্ধ উৎপাদক বিভিন্ন সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। এভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কলেজের গরিমা ভারতের অন্যান্য কলেজের থেকে কোনও অংশে কম নয়।

কিন্তু তা বজায় রাখার দায়িত্ব কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপর। তাই ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়মিত পঠন-পাঠনে এবং পাঠদানে দায়িত্বশীল হতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা নিয়ে চলার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমেই নিজের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই কলেজের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যে প্রাণী সম্পদের বিকাশে এই কলেজ উল্লেযোগ্য কাজ করে চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পশুপালকদের সুবিধার্থে দপ্তরের উদ্যোগে অনেক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গো-ধন প্রকল্প, প্রাণীপালক সম্মাননিধি, ভ্রাম্যমান পশু চিকিৎসা ইউনিট, মুখ্যমন্ত্রী প্রাণী সম্পদ বিকাশ যোজনার আওতায় হাঁস মোরগ পালন প্রকল্প, ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি প্রকল্পের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ৫৫টি নতুন মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট চালু করার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং এর জন্য ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই কলেজের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে ড. জুয়েল দেবনাথকে বিশেষ হাঁস প্রজাতির উপর গবেষণা করার জন্য সম্মানিত করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী তার হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী শুধাংশু দাস বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই কলেজের পথচলা শুরু হয়েছিল। কলেজের জন্য আজ এক ঐতিহাসিক দিন। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর সারা বছর মূলত তিনটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলছে। প্রথমত, প্রাণীসম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন, প্রাণীসম্পদকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মোবাইল ভেটেরেনারি ইউনিট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ইত্যাদির কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব ড. দীপা. ডি. নায়ার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষা প্রফেসর (ডা.) পূরবী বর্মন প্রমুখ।

Leave a Comment