প্রগতি ত্রিপুরা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিসেবার মান উন্নয়ন বৃদ্ধি করতে দিবারাত্রি কাজ করলেও কতিপয় মেডিকেল অফিসার এবং স্বাস্থ্য কর্মীর কারনে স্বাস্থ্য পরিসেবা লাটে উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে ঊনকোটি জেলার জেলাসদর কৈলাসহরে দিনের পর দিন কতিপয় মেডিকেল অফিসার এবং স্বাস্থ্য কর্মীর কারনে স্বাস্থ্য পরিসেবা একেবারেই তলানিতে চলে যাচ্ছে।
কৈলাসহরের জলাই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিলির ঘটনার পর আরেক বেআব্রু স্বাস্থ্য পরিসেবার চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
দূর দুরান্ত থেকে রোগীরা ডাক্তারকে দেখাতে এসে সকাল থেকে দুপুর অব্দি ডাক্তারের দেখায় পায়নি রোগীরা। ঘটনা কৈলাসহরের দূর্গাপুর এলাকায় অবস্থিত জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
উল্লেখ্য, কৈলাসহরের জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়ে থাকে।
তাছাড়া প্রতিবন্ধীদের বিনামুল্যে সহায়ক সরঞ্জাম দেওয়া হয়, বিনামূল্যে প্রতিবন্ধীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য পরিসেবা দেওয়া হয়, প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি পরিসেবা দেওয়া হয়।
তাছাড়া প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে কৃএিম অঙ্গ সংযোজন ও অঙ্গ সঞ্চালনে সহায়ক যন্ত্র সংযোজন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও আরো নানান পরিসেবা দেওয়া হয় জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে।
কৈলাসহরের জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র ভালো চিকিৎসা পরিসেবা দেওয়ার ফলে ২০১৫সালে ভারতের তৎকালীন রাস্ট্রপতি পুরস্কৃত করেছিলেন কৈলাসহরের জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রকে।
কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে কৈলাসহরের জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে জেলার প্রতিবন্ধীরা সব ধরনের সরকারি চিকিৎসা পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন যে, কৈলাসহরের জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকরা আসেন না।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবন্ধীরা স্বাস্থ্য পরিসেবা নেওয়ার জন্য আসার পর ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায় কিন্তু চিকিৎসকের দেখা মেলে না। এমনই এক চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
দূর দুরান্ত থেকে প্রতিবন্ধী সহ আত্মীয় স্বজনরা জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে সকাল দশটায় আসলেও দুপুর দুইটা অব্দি চিকিৎসক আসেনি বলে বলে জানান প্রতিবন্ধীরা চিকিৎসক না পেয়ে প্রতিবন্ধীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
প্রায় সময়ই জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসকরা সময় মতো কিংবা নিয়মিতভাবে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে কৈলাসহরের জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের কোনো কর্মী ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে মন্তব্য করতে নারাজ। এখন দেখার বিষয়, দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা কোনো ধরনের কার্যকরী ভুমিকা পালন করেন কিনা।
তাছাড়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিলি এবং জেলা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়মিত ভাবে চিকিৎসক না আসার কারনে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি? এটাই জেলাবাসী জানতে চায়।








