বর্তমানে প্রকৃতি ও পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কৃষিজমির উর্বরতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে : মন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা,১৭ জুন, ২০২৬: কৃষকদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। কৃষিজমি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে রাজ্যে মোট ২৮৪টি প্রকল্প চালু রয়েছে, যা অন্তিম ব্যক্তির উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্প গুলির মধ্যে অধিকাংশই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর সময়কালে শুরু হয়েছে। বুধবার ধর্মনগরের রাগনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত “খেত বাঁচাও অভিযান” ও প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক একদিনের জেলা পর্যায়ের কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমিকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক চাষাবাদের দিকে মানুষকে উৎসাহিত করতেই দেশজুড়ে “খেত বাঁচাও অভিযান” পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচি ১ জুন শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রকৃতি ও পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কৃষিজমির উর্বরতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং তা দূষণের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির দিকে অগ্রসর হওয়া সময়ের দাবি।মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা চলছে। চলতি বছরের শেষে এটি বৃদ্ধি করে ১৬,০০০ হেক্টরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন ২০১৮ সালের আগে রাজ্যে প্রাকৃতিক কৃষির অস্তিত্ব প্রায় ছিল না বললেই চলে। তখন মাত্র প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমিতে জৈব কৃষি হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬,০০০ হেক্টরেরও বেশি হয়েছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। যদিও অনেকে মনে করেন রাসায়নিক সার উৎপাদন বাড়ায়, বাস্তবে প্রাকৃতিক কৃষির মাধ্যমে কম খরচে ও টেকসইভাবে ভালো উৎপাদন সম্ভব।

তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগে সমাজের সব স্তরের মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদেরও তাদের নিজস্ব জমিতে প্রাকৃতিক কৃষি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ কৃষকরাও অনুপ্রাণিত হন।

রতন লাল নাথ বলেন, ভারত কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও কৃষিজমি সংরক্ষণ এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই লক্ষ্যে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ স্তরে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (KVK) বিজ্ঞানীরাও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের সর্বাত্মক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নত দেশে পরিণত করা। ২০১৪ সালের আগে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে ১১তম স্থানে থাকলেও বর্তমানে তা চতুর্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Comment