২০৪৭ – এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার কারিগর হতে যুবসম্প্রদায়কে আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

অনলাইন ডেস্ক,১৮ জুলাই, ২০২৫:

কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল আজ নয়ডায় ইন্ডিয়াজ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইটেড নেশনস্‌ (আইআইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সেখানে ছাত্র ও যুব নেতৃত্বের উদ্দেশে তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়তে যুবসম্প্রদায়ের সক্রিয় অবদানের আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিকশিত ভারত গড়তে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী অমৃত কালের জন্য পঞ্চপ্রাণের কথা বলেছেন তার উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রী গোয়েল বলেন, ভারত এখন বিরাট  রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে চলেছে। ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তির মাঝে ২৫ বছর রাষ্ট্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি বলেন, পঞ্চপ্রাণের প্রথম শপথ হ’ল – ভারত’কে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। যুবরাই এই রূপান্তরের প্রাথমিক চালক।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় শপথটি হ’ল – ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার। শতবর্ষ ধরে বিদেশি শাসনাধীনে থাকায় আস্থার মনোভাব নষ্ট হয়েছে, সেইসঙ্গে তৈরি হয়েছে চিন্তার সীমাবদ্ধতা। তিনি বলেন, সীমার মাঝে নিজেকে না বেঁধে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যপূরণে বিশ্বমান অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তৃতীয় শপথের উল্লেখ করে ভারতের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করতে বলেন। ভারত’কে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধের গভীর তাৎপর্য রয়েছে বলে তিনি জানান।

চতুর্থ শপথ সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের ঐক্য এবং অখন্ডতার গুরুত্ব অপরিসীম। আইআইএমইউএন – এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশ ও বিদেশের যুবসম্প্রদায়কে তা ঐক্যবদ্ধ করবে। প্রতিটি স্তরেই ভারতীয় ঐক্যের বোধকে সঞ্চারিত করতে হবে। ভারত’কে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংঘবদ্ধ প্রয়াস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চম শপথ যা দেশ গঠনে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত সংকল্পের কথা উল্লেখ করে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারত’কে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের নাগরিকদের পরিবারের মতো মিলেমিশে কাজ করতে হবে, দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার মনোভাব বজায় রাখতে হবে।

ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যুবসম্প্রদায়কে  তাঁদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন এই দায়িত্বকে তাঁদের  বিশেষ অধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কাজের প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠ হয়ে অন্যের প্রতি যত্নশীল মানসিকতার মাধ্যমে সুচারুভাবে নিজের কাজ করে যেতে হবে বলে তিনি বলেন।

শিক্ষক ও পরামর্শদাতাদের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, বিদ্যালয় ও কলেজে তাঁদের সেই অবদানকে আমরা প্রাপ্য হিসেবে দেখি তবে দেশ গঠন ও ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গঠনে তাঁদের সেই ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম। জনজীবনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য যুবসম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের কথা পুনরায় স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ১ লক্ষ যুবক-যুবতীকে যুক্ত করার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তাতে তাঁরা জনসেবায় পরিবর্তনের বাহক হয়ে উঠতে পারবেন। যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে যৌথ সংকল্প গ্রহণের উপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

PIB

Leave a Comment