অনলাইন ডেস্ক, ১১ জুন, ২০২৫: আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বিকাশে নির্মিয়মান পরিকাঠামোগুলির কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এর ফলে রাজ্যে পর্যটকদের আগমন অনেকাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। আজ ত্রিপুরা পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ৩৯তম বোর্ড অব ডাইরেক্টর’স-এর সভার শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে একথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
গীতাঞ্জলী ট্যুরিজম গেষ্টহাউজে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বন দপ্তরের পিসিসিএফ আর কে শ্যামল, পর্যটন দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা, অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, পূর্ত দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনীয়ার রাজীব দেববর্মা, পর্যটন দপ্তরের অধিকর্তা প্রশান্ত বাদল নেগি, টিটিডিসিএল’র এমডি অনিরুদ্ধ রায় সহ দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকগণ।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার যৌথ চিন্তাভাবনাকে পাথেয় করে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। রাজ্যের পর্যটন শিল্পের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যে নতুন নতুন পর্যটন ক্ষেত্রের বিকাশে কাজ চলছে। তিনি বলেন, আজকের এই সভায় পর্যটন ক্ষেত্রের বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। সভায় পর্যটন ক্ষেত্র সমূহের পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
যাতে এই শিল্প থেকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়। ইতিমধ্যে মা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নবরূপে সজ্জিত মন্দির পরিকাঠামোর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভায় রাজ্যের পর্যটন খাতে কত টাকা পাওয়া গেছে বা আরও কত টাকার প্রয়োজন রয়েছে তা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে পর্যটনমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে সাবলীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পর্যটন দপ্তর কাজ করে চলছে।
পর্যটন শিল্পের বিকাশে এডিবি’র অর্থায়নে ও স্বদেশ দর্শন প্রকল্পে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে জিরানীয়ায় ইকো ট্যুরিজম ও নিক্কো পার্ক স্থাপন, ছবিমুড়ার উন্নয়ন, উনকোটির সোনামুখীর উন্নয়ন, বনদোয়ারের ৫১ পীঠ নির্মাণ, সারুমের লুধুয়া চা বাগান কে কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম, মোহনপুরের ইকো ট্যুরিজম, কসবা কালীবাড়িকে কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম, চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের উন্নয়ন এবং ব্রহ্মাকুন্ডে ইকো ট্যুরিজমের উন্নয়ন করা হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ দেশীয় পর্যটক রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনস্থল ভ্রমণ করেন। এর ফলে ৫ কোটি ৮৫ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
আজকের এই সভার শুরুতে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ত্রিপুরা রাজ্য থেকে প্রথমবারের মতো এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়ী পর্বতারোহী অরিত্র রায় ও তার মাকে পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করেন। এই সময় তার হাতে ৫০ হাজার টাকার চেকও তুলে দেওয়া হয়।








