অনলাইন ডেস্ক, ১১ জুন, ২০২৫: খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমাদের দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। তার পরেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইছেন খাদ্যশস্য উৎপাদনে আরও এগিয়ে যেতে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে কোন একটি অঞ্চলে তাৎক্ষণিক উৎপাদন কমে গেলে সামগ্রিক উৎপাদন থেকে যাতে ঘাটতি মেটানো যায় তার চেষ্টা চলছে। সেই লক্ষ্যেই সারা দেশে বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান চলছে।
কুমারঘাটের গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে আজ বিকালে উনকোটি জেলাভিত্তিক বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযানের উদ্বোধন করে একথা বলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ।
এর আগে কৃষিমন্ত্রী বেতছড়া বাজারে কৃষি মার্কেট শেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২. কোটি ২০ লক্ষ টাকা প্রস্তাবিত ব্যয়ে এই মার্কেট শেড নির্মাণ করা হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথের সাথে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, উনকোটি জিলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি সন্তোষ ধর, কুমারঘাট বিএসি’র চেয়ারম্যান তপনজয় রিয়াৎ, কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান শংকর দেব, উদ্যান দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার দাস, কৃষি দপ্তরের জেলার উপ অধিকর্তা সোমেন নন্দী প্রমুখ। এ উপলক্ষে বেতছড়া কমিউনিটি হলে একটি জনসভারও আয়োজন করা হয়। সেখানে অতিথিগণ বক্তব্য রাখেন।
সমৃদ্ধি, স্বচ্ছলতা আর আত্মনির্ভরতার অঙ্গীকারে ২৯ মে-১২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান কর্মসূচি চলছে। এরই অঙ্গ হিসেবে আজ গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচি উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের ভাষণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, কৃষি উৎপাদনে কৃষকদের কারিগরি ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদে সচেতন করতে সারা রাজ্যে বিভিন্ন গ্রাম ও ভিলেজ স্তরে কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে এই অভিযানে প্রতিদিন ৭২টি করে সভা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযানের উদ্দেশ্য হল কৃষি কাজে যে সমস্যাগুলো আসছে তা মাঠে গিয়ে সম্যক ধারণা নিয়ে তার বিজ্ঞান ভিত্তিক সুরাহা করা। কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চাষাবাদের জন্য কি পন্থা গ্রহণ করা যায় সে সম্পর্কে ধারনা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইছেন ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশ যাতে বিকশিত ভারত হিসেবে উঠে আসে। এ জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষি ও কৃষকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের উপর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস বলেন, কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে দূরদৃষ্টি পরিকল্পনা নিয়েছেন এর সুফল ইতিমধ্যে আমরা পেতে চলেছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে কৃষকদের অবস্থারও পরিবর্তন হচ্ছে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আইসিএআর-এর বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী প্রাণনাথ বর্মণ ও ঊনকোটি জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী বিশ্বজিৎ বল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদ্যান দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার দাস। উপস্থিত ছিলেন উনকোটি জিলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি সন্তোষ ধর, কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সুমতি দাস, ভাইস চেয়ারম্যান শংকর দাস, মৎস্য দপ্তরের উপ অধিকর্তা তারেন্দ্র দেববর্মা, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সহ অধিকর্তা ডা. তপন রায়, কৃষি দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকার স্বপন দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দশজন কৃষককে সম্মানিত করা হয়।








