অনলাইন ডেস্ক, ০৯ জুন, ২০২৫: বিকশিত ত্রিপুরা গঠনের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে রাজ্য সরকার কাজ করে চলেছে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
আজ সাবুম মহকুমার পুরাতন টাউনহলে ‘বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান- কৃষি, উদ্যানতত্ত্ব, পশুপালন ও মৎস্যচাষের সামগ্রিক বিকাশের দিকে একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ’ এই আলোচনাসভার সূচনা করে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা বলেন।
তিনি বলেন, কৃষকরা হলেন অন্নদাতা। এজন্য তাদের পরিশ্রমের এবং উৎপাদনশীলতার মূল্যায়ন করতে হবে। রাজ্য সরকার আন্তরিকতার সাথে কৃষি ও কৃষক উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে চলেছে।
তিনি বলেন, কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করছেন, যাতে অল্প খরচে বেশি উৎপাদন হয়। কৃষিক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে তার বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ২৯ মে থেকে সমগ্র দেশের সঙ্গে রাজ্যেও বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান শুরু হয়েছে।
এই অভিযান চলবে ১২ জুন পর্যন্ত। তিনি বলেন, গতকাল অব্দি এখন পর্যন্ত রাজ্যের ১ লক্ষ ২০ হাজার কৃষকের কাছে এই অভিযানের বার্তা নিয়ে পৌঁছানো গেছে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রাথমিকভাবে ১ লক্ষ ৭২ হাজার কৃষকের কাছে এই অভিযানের মাধ্যমে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্যে সফল হওয়ার জন্য প্রতিদিন কৃষকদের নিয়ে ৭২টি বৈঠক করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের সাথে বিজ্ঞানীদের এবং দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় হচ্ছে।
১২ জুনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাবুম মহকুমার তিনটি ব্লকের মধ্যে সাতচাঁদ এবং রূপাইছড়ি ব্লক ইতিমধ্যেই খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে। আগামীদিনে পোয়াৎবাড়ি ব্লকও এই মর্যাদা যাতে পায় সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যেও এখন অনেক আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার কৃষি গবেষণাগারে নতুন একটি ধানের প্রজাতির বীজ আবিষ্কার করা হয়েছে, যার নাম অরুন্ধতী। আগে যেখানে ১ কানি চাষের জায়গায় ১৭ মন ধান চাষ হতো এখন এই অরুন্ধতী বীজ লাগালে ২৪ মন ধান পাওয়া যাবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী বি. কে. নন্দা, মৎস্য দপ্তরের মৎস্য তত্ত্বাবধায়ক অজয় দাস এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সহঅধিকর্তা অতেন্দু রিয়াং রিসোর্সপার্সন হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষিমন্ত্রী দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জন্য মোবাইল সয়েল টেস্টিং ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ৫ জন কৃষককে পাওয়ারটিলার এবং ৫ জন কৃষককে সয়েল হেলথ কার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, বিধায়ক মাইলায়ু মগ, সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন রমা পোদ্দার দে, প্রাক্তন বিধায়ক শংকর রায়, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ড. ফণীভূষণ জমাতিয়া, উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার দাস প্রমুখ।








