।। গৌতম দাস ।।
জলই জীবন- এই চিরন্তন সত্য আজও অপরিবর্তিত। সভ্যতা যতই আধুনিকতার পথ বেয়ে অগ্রসর হোক না কেন, এক ফোঁটা জলের গুরুত্ব কখনও কমবে না। জলের স্পর্শেই প্রাণের সঞ্চার, জীবনের গতিপথ। এই উপলব্ধিকে সামনে রেখেই পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর নিরলস কাজ করে চলেছে গ্রামের প্রতিটি ঘরে, পাহাড়ের প্রতিটি জনপদে বিশুদ্ধ পানীয়জল পৌঁছে দিতে। জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে, প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করে এই প্রচেষ্টা মানুষকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের উদ্যোগে জিরানীয়া মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে পানীয়জলের সমস্যা সমাধানে ধারাবাহিকভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে মহকুমার বেলবাড়ি ব্লকে জল জীবন মিশনে এখন পর্যন্ত ৭,৬৬৯টি পরিবারকে বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক বড় পরিবর্তন এনেছে।
এই ব্লক এলাকায় বর্তমানে ৫৮টি ডিপটিউবওয়েল খনন করা হয়েছে এবং আরও ৮টি নতুন ডিপটিউবওয়েল খননের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ১৪০টি স্মলবোর ডিপটিউবওয়েল খননের পরিকল্পনা ছিলো। এরমধ্যেই ১৩৩টির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার লোকজন এর সুফল পাচ্ছেন। বাকি ৭টি অতি শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে জানান দপ্তরের এস.ডি.ও. সুবিনয় দেববর্মা। পানীয়জলে লোহার (আয়রন) উপস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিলো। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে বেলবাড়ি ব্লকে ইতিমধ্যেই ১৭টি আয়রন রিমুভ্যাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে, যা জলকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ করে তুলছে।
অপরদিকে যেসব গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক জলের উৎস সীমিত বা একেবারেই অনুপস্থিত, সেখানে নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯টি বিকল্প প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এগুলি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বেলবাড়ি ব্লকের পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলের জনগণ পানীয়জলের সুবিধা পাবে, তাদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করবে। পানীয়জলের গুরুত্বকে সামনে রেখেই জল জীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে জিরানীয়া ব্লক জুড়ে এক সুসংগঠিত ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে জিরানীয়া ব্লকে এখন পর্যন্ত ৯,৩৪৫টি পরিবারের দরজায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংযোগ। প্রতিটি ঘরে, বিশেষত সমাজের প্রান্তিক ও অনগ্রসর মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ৬৪টি ডিপটিউবওয়েলের মধ্যে ৬০টির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। যার সুফল জনগণ ভোগ করছেন। একই সাথে ১০০টি স্মলবোর ডিপটিউবওয়েল প্রকল্পের মধ্যে ৯১টির কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। ৪০টি আয়রন রিমুভ্যাল প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে এবং আরও ১০টি নতুন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যার মধ্যে বেশিরভাগ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। জিরানীয়া ব্লকের কিছু গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে যেখানে প্রাকৃতিক জলের উৎস অনুপস্থিত, যেখানে নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪টি বিকল্প প্রকল্পের মাধ্যমে জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরাতন আগরতলা ব্লকেও এখন পর্যন্ত ১০,১২৯টি বাড়িতে পানীয়জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ডিপটিউবওয়েল ৬২টি এবং স্মলবোর ডিপটিউবওয়েল ৮৩টি বসানো হয়েছে। ২১টি আয়রন রিমুভ্যাল প্ল্যান্টও বসানো হয়েছে।
দপ্তরের লক্ষ্য শুধু আজকের সমস্যার সমাধান নয়, বরং শুখা মরশুমেও যাতে সাধারণ জনগণ পানীয়জলের সমস্যায় না ভোগেন, সেদিকেও রয়েছে দপ্তরের সুপরিকল্পিত প্রয়াস। সার্বিকভাবে জিরানীয়া মহকুমায় পানীয়জলের সমস্যা নিরসনে দপ্তরের এই পরিকল্পিত ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ জনগণের কাছে আশার আলো জ্বালিয়েছে। এই সফল উদ্যোগ প্রমাণ করে সকলের জন্য নিরাপদ ও পরিদ্রুত পানীয়জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।








