প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ জুন, ২০২৬: রাস্তায় বেরিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে নিশ্চিন্তে কিনে নিলেন বোতলবন্দি পানীয় জল! ভেবেছিলেন বিশুদ্ধ জল পান করে শরীর সুস্থ রাখবেন। কিন্তু সেই বোতলের ভেতরেই যদি শেওলা কিংবা অজ্ঞাত ভাসমান পদার্থ আপনাকে হাতছানি দেয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই— রাজ্যে আদৌ কি বোতলবন্দি জল উৎপাদনকারী সংস্থা গুলোর উপর কোনো নজরদারি আছে?
বৃহস্পতিবার মেলাঘরের লাল মিয়া চৌমুহনী এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনা যেন সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করল। উদয়পুরের একটি জল কোম্পানির সরবরাহকৃত বোতলবন্দি জলে চোখে পড়ল সন্দেহজনক ভাসমান বস্তু। দোকানমালিক ও স্থানীয়দের নজরে আসতেই শুরু হয় চাঞ্চল্য। বিশুদ্ধতার দাবি করা জলের বোতল যেন মুহূর্তে পরিণত হয় প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীকে।
স্থানীয়রা বিক্রেতাদের আটকে রেখে খবর দেন খাদ্য দপ্তর ও ফুড সেফটি অফিসারকে। ঘটনাস্থলে এসে তারাও জলের ভেতরে ভাসমান সন্দেহজনক পদার্থের উপস্থিতি স্বীকার করেন। পরে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর কথা জানানো হয়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্রেতাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও ছিল না। তাহলে প্রশ্ন হলো— কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে এই জল বাজারে পৌঁছালো? কার ছত্রছায়ায় গজিয়ে উঠছে এমন বেনামি জল কোম্পানি? প্রশাসন কি শুধু অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসবে, নাকি মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা বন্ধে আগাম নজরদারিরও ব্যবস্থা করবে?
কারণ বোতলের গায়ে ‘প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার’ লেখা থাকলেই জল নিরাপদ হয়ে যায় না। মেলাঘরের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, অনেক ক্ষেত্রে বোতলের সিল যতটা শক্ত, ততটা শক্ত নয় নজরদারির ব্যবস্থাটাই।







