প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ জুন, ২০২৬: করবুক মহকুমার অন্তর্গত করবুক ব্লকের পোয়াংবাড়ি এডিসি ভিলেজে বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ টিপরা মথা পার্টি ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
টিপরা মথা পার্টির কর্মীদের অভিযোগ, পোয়াংবাড়ি এডিসি ভিলেজের বহু বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে রেগা কাজসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পঞ্চায়েতের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এই বিষয়গুলির প্রতিবাদ এবং দাবিদাওয়া তুলে ধরতে দলের কর্মী-সমর্থকরা পঞ্চায়েত সচিব ও জিআরএস-এর কাছে একটি ডেপুটেশন জমা দিতে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডেপুটেশন জমা দেওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে চেলাগাং থানার ওসি বাবুল দাস বিশাল পুলিশ বাহিনী ও টিএসআর জওয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
টিপরা মথা প্রতিনিধিরা তাদের দাবিপত্র ওসি বাবুল দাসের হাতে তুলে দেন। ওসি জানান, দাবিপত্রটি করবুক ব্লকের বিডিও সুব্রজিৎ পলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে টিপরা মথা পার্টির পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে দলের নেতারা দাবি করেন, প্রায় দুই মাস আগেও একই ধরনের ডেপুটেশন জমা দিতে গেলে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তারা প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার তাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কেন এলাকার সাধারণ মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চায়েত সচিব পরিতোষ দাস, জিআরএস সজল সরকার এবং প্রাক্তন জিআরএস মনোরঞ্জন চাকমার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়। টিপরা মথার দাবি, সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও প্রশাসন নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।







