বিপদের সমানে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ কৈলাসহরের অসহায় পরিবারগুলোর!

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ জুন, ২০২৬: শহর এলাকায় নদী ভাঙ্গন আটকাতে রাজ্য সরকার ব্লক বানানোর জন্য কোটি কোটি টাকা দিলেও শাসক দলের তকমাদারী ঠিকাদাররা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের ম্যানেজ করে নামকাওয়াস্তে কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাফিজ করে নিচ্ছেন বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করছেন। আসন্ন বর্ষায় গোটা গ্রামের দেড়শো পরিবার নদীর জলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ।

নেই কোনো তদন্ত, প্রশাসন উদাসীন, নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে শাসক দলের নেতারা। ঘটনা ঊনকোটি জেলার জেলাসদরের খোদ কৈলাসহর শহর এলাকায়। কৈলাসহর পুর পরিসদের ১৬নং ওয়ার্ডের সুকান্ত কলোনি এলাকাটি মনু নদীর পাশেই অবস্থিত। সুকান্ত কলোনি এলাকায় প্রায় দেড়শো পরিবারের বসবাস রয়েছে। প্রতি বছর মনু নদীর ভাঙ্গনের ফলে একেবারেই বসতবাড়ীর কাছেই মনু নদী চলে এসেছে। এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবী মোতাবেক রাজ্য সরকারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পক্ষ থেকে নদীর ভাঙ্গন আটকাতে ব্লক বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো।

সেই মোতাবেক দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় কোটি টাকার উপর টেন্ডার ডাকা হয়েছিলো। বিশেষ সূত্রে জানা যায় যে, শাসক দলের কতিপয় ঠিকাদাররা মূল টাকার পঞ্চাশ শতাংশ কম দিয়ে কাজটি অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়ে শুরু হয় দুর্নীতি। দপ্তরের গাইড লাইন অনুযায়ী মোট আঠারো হাজার ব্লক বারো ইঞ্চি উচ্চতায় নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদাররা আট ইঞ্চি উচ্চতায় ব্লক তৈরি করেছেন। এখানেই শেষ নয়, মোট আঠারো হাজার ব্লক নির্মান করার কথা থাকলেও মাত্র চার হাজার ব্লক নির্মান করে পুরো টাকাই হাফিজ করে নেয় শাসক দলের ঠিকাদাররা।

এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ করে যে, ব্লক নির্মানের সময় নির্মাণস্থলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কোনো ইঞ্জিনিয়ার কিংবা দপ্তরের কোনো আধিকারিক আসেন নি। বিশেষ এক সূত্রে জানা যায় যে, দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সহ আধিকারিককে মোটা অংকের বিনিময়ে ম্যানেজ করে শাসক দলের ঠিকাদাররা এই কাজটি করে নিয়েছে। এলাকাবাসীরা আরও গুরুতর অভিযোগ করেন যে, দপ্তরের গাইড লাইন অনুযায়ী ব্লক নির্মাণে যতটুকু সিমেন্ট দেওয়ার কথা ততোটুক সিমেন্ট না দিয়ে বালি বেশি দিয়ে ব্লক বানানো হয়েছে।

তাও আবার অবৈধভাবে নির্মাণস্থলের কাছ থেকে মনু নদী থেকে বালি তোলে সেই বালি পরিষ্কার না করেই ব্লক বানানো হয়েছিলো। ব্লক গুলো বানিয়ে রাতের অন্ধকারে এলোপাতাড়ি ভাবে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা। কাজের দুর্নীতি নিয়ে এলাকাবাসীরা দফায় দফায় দপ্তরের আধিকারিক সহ স্থানীয় শাসক দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করলেও সকলেই নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেছে। মনু নদীর পাড় ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বর্তমানে বসতবাড়ীর একেবারে কাছেই নদী চলে আসায় গোটা এলাকার মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন।

সুকান্ত কলোনি এলাকার মোট দেড়শো পরিবারের অধিকাংশ মানুষেরাই অর্থনৈতিক ভাবে অনেকটাই দুর্বল। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীরা কোনো উপায় না পেয়ে স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, সুকান্ত কলোনি এলাকায় যেসব ঠিকাদারেরা ব্লক বানিয়েছেন সেইসব ঠিকাদারেরা কৈলাসহরে অনেক বড় বড় নির্মান কাজ করছেন এবং প্রতিটি কাজেই দুর্নীতি করলেও ঠিকাদারেরা কাউকেই পাত্তা দিচ্ছেন না।বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এসে অবৈধভাবে ভারতের নাগরিক হয়ে বর্তমানে নিজেকে হিন্দু নেতা জাহির করে ঠিকাদারি বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

সেই হিন্দু নেতার পরোক্ষ মদতে ঠিকাদারেরা সুকান্ত কলোনি এলাকায় ব্লক নির্মাণে দুর্নীতি করেছেন বলে জানা যায়। এলাকাবাসীরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা?

Leave a Comment