এখন পর্যন্ত ৬,৪৯,৫০০টি পরিবারের মধ্যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে : বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ৩১আগস্ট, ২০২৬: এখনো পানীয় জলের সংযোগ পৌছেনি এমন ১৩.৫০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে পানীয় জলের সংযোগ নিশ্চিত করতে সারা রাজ্যে ৩২৬টি গভীর নলকূপ, ৭০২টি স্বল্প ব্যাসের গভীর নলকূপ, ৩টি ভূপৃষ্ঠস্থ জল পরিশাধনাগার, ১৪৯৮টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট, ২৩৩টি উদ্ভাবনী মূলক প্রকল্প রূপায়ন করা হবে। এই কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। আজ বিধানসভায় একটি দৃষ্টি আকর্ষনী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ এবং বিধায়ক রামু দাস কর্তৃক আনিত দৃষ্টিআকর্ষণী নোটিশটি ছিল ‘ গ্রাম পাহাড়ের সর্বত্র পরিশ্রুত পানীয় জল পরিষেবা সুনিশ্চিত করা সম্পর্কে’ ।

নোটিশের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের গ্রামীন এলাকায় বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে যেমন গভীর নলকূপ, স্বল্প ব্যাসের গভীর নলকূপ, জল পরিশোধনাগার, উদ্ভাবনী মূলক (ইনোভেটিভ) প্রকল্প ইত্যাদি। কিছু পাহাড়ী অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ঘরবাড়ি যেমন রয়েছে তেমনি জল স্তরের অপ্রতুলতা বশত: পানীয় জলের স্থায়ী উৎস যেমন গভীর নলকূপ, স্বল্প ব্যাসের গভীর নলকূপ তৈরী করা সম্ভবপর হচ্ছে না। কিন্তু সেই সকল এলাকায় ছড়া, নালা, জলাধার এবং ঝর্ণার জলকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবনী মূলক (ইনোভেটিভ) প্রকল্প তৈরী করা হয়েছে এবং আরও কাজ চলছে। তবে এই উদ্ভাবনী মূলক প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় বেশি ব্যয়িত হয়। তথাপি উক্ত বাধা অতিক্রম করেও পানীয় জল ও স্বাস্থ্য বিধান দপ্তর জলজীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে জলের গুণমান পর্যবেক্ষণ, নজরদারি এবং সচেতনতা মূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জলজীবন মিশন প্রকল্প সম্পূর্নরূপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মিশন মোডে কাজ করে চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট জল জীবন মিশন প্রকল্পের সূচনার আগে এই রাজ্যের গ্রামীন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ ছিল মাত্র ৩.২৬ শতাংশ। বর্তমানে রাজ্যের ৬০৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৫৮৭ ভিলেজ কাউন্সিল এলাকায় মোট পরিবারের সংখ্যা ৭,৫০,৮৪৯ যার মধ্যে গত ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত ৬,৪৯,৫০০টি পরিবারের মধ্যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ ৮৬.৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে এডিসি এলাকায় মোট পরিবারের সংখ্যা ৩,২৭,১৯৩ যার মধ্যে গত ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত ২,৭০,৭১৪ সংখ্যক পরিবারের মধ্যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ ৮২.৭৪ শতাংশ কাজ হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ৬০৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৫৮৭ টি টিটিএএডিসি ভিলেজ কাউন্সিলে পানীয় জল সরবরাহ করার জন্য যে কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ২৯২ টি গ্রাম পঞ্চায়েত / ভিলেজে কাউন্সিলে (১৭৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১১৩ টি ভিলেজ কাউন্সিলে) ১০০% কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। ৩৪১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ভিলেজে কাউন্সিলে (১৯২ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১৪৯ টি ভিলেজে কাউন্সিল) ৯০ থেকে ১০০% কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। ২১৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত/ ভিলেজে কাউন্সিলে (১০৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১১২ টি ভিলেজে কাউন্সিল) ৮০ থেকে ৯০% কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। ১৫১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত/ ভিলেজে কাউন্সিলে (৬৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৮৮ টি ভিলেজে কাউন্সিল) ৭০ থেকে ৮০% কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। ১২৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত/ ভিলেজে কাউন্সিলে (৪২ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ৮৩ টি ভিলেজে কাউন্সিল) ৫০ থেকে ৭০% কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। ৩৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত/ ভিলেজে কাউন্সিলে (৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ২৭ টি ভিলেজে কাউন্সিল) ২৫ থেকে ৫০% কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। টিটিএএডিসি এলাকায় ও নন-টিটিএএডিসি এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য। গভীর নলকূপ রয়েছে ৪৩১৩টি, স্বল্প ব্যাসেরর গভীর নলকূপ রয়েছে ১০৪০৩টি, ভূপৃষ্ঠস্থ জল পরি-শোধনাগার রয়েছে ৪০ টি, আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট রয়েছে ১৯৫০টি , উদ্ভাবনী মূলক প্রকল্প রয়েছে ৫৫৯টি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত/ ভিলেজ কাউন্সিলে (২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১৫টি ভিলেজ কাউন্সিলে) ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকরি পারিবারিক ট্যাপ সংযোগ (এফএইচটিসি) রয়েছে। পানীয় জলে আয়রনের পরিমাণ পারমিসিবল লিমিট এর মধ্যে রাখার লক্ষ্যে আরও ১৪৯৮টি আয়রন রিমুভ্যাল প্ল্যান্টের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে যা ডিসেম্বর, ২০২৮ সনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা যায়। এখনো পর্যন্ত এই রাজ্যের ৪৩২১টি স্কুলে (৯৬.০২%) এবং ৮৬২০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে (৯৪.৩৫%) পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ সুনিশ্চিত করা হয়েছে। জলের গুণগতমান পরীক্ষা করার জন্য রাজ্যে বর্তমানে মোট ২১টি পানীয় জল পরীক্ষাগার (১টি রাজ্য স্তরে, ৮টি জেলা স্তরে এবং ১২টি ডিডব্লিওএস সাব-ডিভিশান স্তরে) রয়েছে। উক্ত জল পরীক্ষাগারগুলি ন্যাশনাল এক্রিডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং এন্ড কেলিব্রেশান (এনএবিএল) কর্তৃক অনুমোদিত। তাছাড়াও জলের গণগতমান ফিল্ড টেস্ট কিট (এফটিকে) এর মাধ্যমে পরীক্ষা করার জন্য রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভিলেজ কমিটিতে ৫ জন করে মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এফটিকে প্রদান করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে জলের গুণগতমান ল্যাবরেটরি এবং এফটিকে এর মাধ্যমে যথোপযুক্তভাবে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভিলেজ কমিটিতে ন্যূনতম ১ জন করে মোট ১২৬২ জন স্থানীয় পুরুষ/ মহিলাকে ‘নল জল মিত্র’ রূপে চিহ্নিত ও বহুমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ স্তরে পানীয় জল সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭৭৭ জনকে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে, বাকি ৪৮৫ জনকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে প্রশিক্ষন দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর হেল্প লাইন নাম্বার ১৯০৫ এবং আমার সরকার ওয়েব পোর্টালে জল সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগ নথিভুক্ত ও তার নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পটির বর্ধিত সংস্করন, জল জীবন মিশন ২.০, কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অর্থবৎসরে ঘোষিত হয়েছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পটি সম্পন্ন করার প্রাথমিক সময়সীমা ২০২৪ হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত গ্রামীন পরিবারগুলিকে পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জল জীবন মিশন ২.০-এর অধীনে সময়সীমা ডিসেম্বর, ২০২৮  পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জল জীবন মিশন প্রকল্পটির বর্ধিত সংস্করন, জল জীবন মিশন ২.০, কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬ ইং অর্থবছরে ঘোষিত হয়েছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পটি সম্পন্ন করার প্রাথমিক সময়সীমা ২০২৪ হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত গ্রামীন পরিবারগুলিকে পানীয় জল সরবরাহ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষনাবেক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জল জীবন মিশন ২.০-এর অধীনে প্রকল্প রুপায়নের সময়সীমা ২০২৮ ইং পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ ইং অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত অর্থের পরিমান ছিল ৩৬৮.৩৮ কোটি টাকা। অন্যান্য রাজ্যের ন্যায়, ত্রিপুরা রাজ্যেও কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ২০২৫-২৬ ইং অর্থবৎসরে কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখযোগ্যভাবে ২০২৬-২৭ ইং অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার, ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ৫০৮.১০ (৯০ শতাংশ) কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আনুপাতিক হারে রাজ্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত আর্থিক পরিমান ৫৬.৪৬ (১০ শতাংশ) কোটি টাকা অর্থাৎ ২০২৬-২৭ ইং অর্থবছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান ৫৬৪.৭৬ কোটি টাকা। এই বরাদ্দকৃত অর্থ চারটি কিস্তিতে (ত্রৈমাসিক) প্রদান করা হবে। প্রথম কিস্তিতে এখনো পর্যন্ত ১২২.৩৯ কোটি টাকা মঞ্জুরী করেছে এবং আশা করা যায় যে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং সালের শেষ সপ্তাহে পাওয়া যাবে। এই প্রথম কিস্তির মঞ্জুরীকৃত টাকা সেই সমস্ত প্রকল্পে দেওয়া হবে যার কাজ ১০০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায় যে বর্তমান অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন ভিত্তিক আরও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে পারে। জনসাধারনের জন্য সম্ভাব্য পানীয় জলের সহজ লভ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছে। বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথও বক্তব্য রাখেন।

Leave a Comment