অনলাইন ডেস্ক, ৩১আগস্ট, ২০২৬: আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাজ্যের টিটিএএডিসি এলাকার ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৫ অক্টোবর এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৮ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা হবে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের বিস্তারিত নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ও প্রস্তুতির রূপরেখা তুলে ধরে একথা জানান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি. কে. চক্রবর্তী।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, পরিস্থিতির জটিলতার কারণে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। ২০১৬ সালে গঠিত টিটিএএডিসি`র ভিলেজ কমিটিগুলির মেয়াদ স্বাভাবিক নিয়মে ৮ মার্চ, ২০২১ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ২০২১ সালে দেশজুড়ে করোনা অতিমারির প্রাদুর্ভাবের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণেও নির্বাচন আরও পিছিয়ে যায়। তিনি জানান, রাজ্য নির্বাচন কমিশন অবশ্য ২০২২ সালেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছিলএবং সেই সময় নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ, ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি. কে. চক্রবর্তী জানান, এবারের নির্বাচনে ৫২টি আর.ডি. ব্লকের অধীনে থাকা ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির ২,৬৩৪টি নির্বাচনী ক্ষেত্রে মোট ৪,৫৯৭টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের মোট ৫৮টি ব্লকের মধ্যে ৬টি ব্লকের অধীনে কোনও ভিলেজ কমিটি না থাকায় ওই ব্লকগুলিতে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন কমিশনার জানান, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। মনোনয়ন পত্র জমা দেবার শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর। ৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্রগুলি পরীক্ষা বা স্ক্রুটিনি করা হবে এবং ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ২৮ সেপ্টেম্বর, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কোনও কারণে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হলে ৩ অক্টোবর তা অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা শুরু হবে ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে এবং গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।
তিনি জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে মোট ৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৭৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে ৪ লক্ষ ৮২ হাজার ৪১ জন পুরুষ, ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৩০ জন মহিলা এবং ৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ভিলেজ কমিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা ১ অক্টোবর, ২০২৫-কে যোগ্যতার তারিখ হিসেবে ধরে সংশোধিত বিধানসভার ভোটার তালিকা থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য মোট ১,৫৫০টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ধলাই জেলায় সর্বাধিক ২৯৯টি এবং উনকোটি জেলায় সর্বনিম্ন ৯২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
তিনি জানান,নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ৮,৫০০ জন পোলিং পার্সোনেল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ২৩১ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ৩৭৩ জন সেক্টর অফিসার ইতিমধ্যে নির্বাচনী কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটগ্রহণকারী ব্লকগুলিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হবে। রাজ্যের আটটি জেলার জেলা শাসক ও সমাহর্তাদের জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং ৫২টি আর.ডি. ব্লকের বিডিওদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এবারের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ এবং হালকা নীল রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক থাকবে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের সচিত্র পরিচয় পত্র (EPIC) এর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করবেন। তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তি যাতে শুধুমাত্র পরিচয়পত্রের কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য EPIC-এর পাশাপাশি বিকল্প নথির মাধ্যমেও পরিচয় প্রমাণের সুযোগ রাখা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পরবর্তীতে জারি করা হবে। প্রবীণ ও দিব্যাঙ্গ ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানান,নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও আলোচনা করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। গত ২৭ আগস্ট রাজ্য স্তরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনী আচরণবিধি, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আজ, থেকে ভিলেজ কমিটি এলাকায় আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কার্যকর হয়েছে, যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, রাজ্য সরকার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের জন্য এই আচরণবিধি প্রযোজ্য হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকলকে আদর্শ আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত পুলিশের মহানির্দেশক জি. এস. রাও জানান, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনক্রমে বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক টিএসআর ও রাজ্য পুলিশ প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ড. পি কে চক্রবর্তী।সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন।








