অনলাইন ডেস্ক, ৩১আগস্ট, ২০২৬: গত তিনটি অর্থবছরে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্টেট টেলেন্ট সার্চ প্রোগ্রাম স্কিমের আওতায় সব মিলিয়ে ১১২ জন মহিলা খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫২ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৬ জন মহিলা খেলোয়াড় এককালীন আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক স্বপ্না দাস পালের এক প্রশ্নের উত্তরে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, রাজ্যের যে সমস্ত মহিলা খেলোয়াড় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকস্তরে পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের মুখ্যমন্ত্রী স্টেট টেলেন্ট সার্চ প্রোগ্রাম স্কিমের আওতায় এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের খেলায় অংশগ্রহণে আরও উৎসাহ ও অনুপ্রাণিত করার জন্য অস্মিতা সিটি লিগ খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৫০ জন মহিলা ক্রীড়াবিদ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১,৭৬০ জন মহিলা ক্রীড়াবিদ অস্মিতা সিটি লিগ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।
বিধায়ক মাইলায়ু মগ এবং বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার দুটি পৃথক প্রশ্নের উত্তরে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্য ৪৫টি ডেডিকেটেড কোচিং সেন্টার চালু করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি কোচিং সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা দপ্তরের রয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে ১৩টি খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার চালু রয়েছে। গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন ডেডিকেটেড কোচিং সেন্টার ও খেলো ইন্ডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া সরঞ্জাম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুল বাধারঘাট ও পানিসাগরে ভর্তির ব্যবস্থা করে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে গ্রামীণ ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে স্কুল স্পোর্টস বোর্ডের অন্তর্গত অনূর্ধ্ব ১৪, ১৭, ১৯ বছরের স্কুল পড়ুয়া খেলোয়াড়দের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন। এছাড়াও প্রত্যেক বছর টেলেন্ট সার্চ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, ছেলেমেয়েদের শারীরিক বিকাশের জন্য প্রতিটি পঞ্চায়েতে একটি করে ওপেন জিম খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ৯৬টি জায়গায় ওপেন জিম চালু রয়েছে।
২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে রাজ্যে আরও ২০টি ওপেন জিম খোলার পরিকল্পনা দপ্তরের রয়েছে। বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী জানান, রাজ্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর কর্তৃক ৯টি সিন্থেটিক ফুটবল মাঠ তৈরি করা হয়েছে। নতুন আরও একটি সিন্থেটিক ফুটবল মাঠ তৈরি করার কাজ চলছে ধলাই জেলার গন্ডাতুইসা মহকুমায়। গোমতী জেলার কাকড়াবনে আরেকটি মাঠ তৈরির কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। যে ৯টি সিন্থেটিক ফুটবল মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে এগুলির মধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ৪টি, সিপাহীজলা জেলায় ১টি, গোমতী জেলায় ২টি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ও খোয়াই জেলায় ১টি করে রয়েছে। এগুলি নির্মাণ করতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা।








