পরপর দুইবার রাস্তা সংস্কার, তবুও অসন্তুষ্ট জনগণ!

প্রগতি ত্রিপুরা, ২০ মে, ২০২৬: দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছরের পুরানো রাস্তা সংস্কার প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবয় একেবারে ভেঙেচুরে বেহাল অবস্থা। শুধু বেহাল অবস্থায়ই নয়! গ্রামীণ রাস্তার নীচে দিয়ে পানীয় জলের পাইপ লাইন ও জেসিবি দিয়ে কেটে ফেলায় বিগত দুদিন ধরে বহু পরিবার তৃষ্ণা নিবারণের জল পাচ্ছে না। এতে করে রাস্তার দুইপাশের প্রায় ৮২ পরিবারকে ভীষণ দুর্বিষহ লাঞ্ছনার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। উল্লেখ করার বিষয়, কাঠালিয়া বাণিজ্যিক এলাকা থেকে পশ্চিম দিকের উত্তর এবং দক্ষিণ মহেশপুর পঞ্চায়েত এলাকার সীমান্ত দিয়ে একেবারে ৫০০ মিটার বাংলাদেশ সীমান্ত অবধি চলে গেছে এই সড়কটি।
গ্রামীনে সড়ক দিয়ে ছোট, মাঝারি এমনকি বড় ধরনের গাড়ি চলাচল করে দিনরাত। সড়কের দুই পাশে বহু পুরানো বস্তি রয়েছে।

এই সড়কটি সংস্কারের জন্য গত দুই বছর অবধি কাঠালিয়া পিডব্লিউডি দপ্তরের উদ্যোগে প্রচেষ্টা নিলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের চলাচলের কোনরকম সদর্থক হয়নি। গত দুই বছর আগেও বাইশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে অর্ধেক টাকাও খরচ না করে রাস্তা সংস্কারের প্রক্রিয়া শেষ। ঠিক ২ বছর পরে ঠিক বেহাল অবস্থা রাস্তার। রাস্তার দুইপাশের মানুষ স্থানীয় বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করানো হলে তিনি ছয় মাস আগে এসে রাস্তাটির পরিদর্শন করে যান। এই মত রাস্তা কাঠালিয়া পি ডব্লিউ ডি দপ্তর কর্তৃক এক কোটি টাকা বরাদ্দ হয় রাস্তা সংস্কারের জন্য।

সেই মতো গত তিন মাস আগে থেকে শুরু হয় সংস্কার প্রক্রিয়া। সংস্কার করতে গিয়ে অভিজ্ঞানিক এবং অবাস্তব মুখী ভাবনা চিন্তার মাধ্যমে শুরু হয় সাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ। এই সাইড ওয়াল নির্মাণ করতে গিয়ে বহু সমালোচনা শুরু হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মুখোমুখে। তার কারণ, কাজের গুণমান ভালো নয়, এছাড়া এসে গেছে বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ সবকিছু মিলিয়ে রাস্তার চেহারা অতি ভয়ংকর। মানুষ চলাফেরা করা এই মুহূর্তে বড়ই কষ্টকর। সামান্য বৃষ্টি হলেই দুদিকে সাইডওয়াল নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝখানের জল আর কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। মানুষ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া আসা করাটাও দুঃসাধ্য! তারপরও রাস্তা নির্মাণ কাজে কোন রকম বাধা না দিয়ে মানুষ চুপচাপ থাকে।

লক্ষ্য একটাই রাস্তাটি নির্মাণ করা হোক! এর মধ্যেই বাবুল পালের জমির পাশে সাইড ওয়াল নির্মাণের জন্যে জেসিবি গিয়ে মাটিকাটা শুরু করে। মানুষ তখনও কিছু মুখ খুলে বলে নাই। সম্পূর্ণ অভিজ্ঞানিক ভাবনা চিন্তা করেই মাটি কেটেছে। মাটিতে কাটতে গিয়ে পানীয় জলের পাইপলাইন সহ কেটে ফেলেছে। এতে করে মঙ্গলবার পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ ছিল, একই অবস্থা বুধবারেও চলছে।
বুধবার সকাল যখন দশটা বাজে তখনই স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচন্ড বিক্ষোভ শুরু হয়। একদিকে রাত্রিবেলায় রাস্তা ভেঙ্গে কৃষি জমিতে মাটি ভরাট হয়ে যায়। অপরদিকে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ।তৃতীয়ত-রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার ছোট মাঝারি গাড়ি চলাচল বদ্ধ, এমনকি মোটরবাইক বা সাইকেল চালিয়েও আসা-যাওয়া কষ্টসাধ্য। এই অবস্থা চলছে গত দুদিন ধরে। অতি দ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা না করলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর রাস্তা অবরোধের নামবে ঐক্যবদ্ধভাবে।

Leave a Comment