প্রগতি ত্রিপুরা, ২ এপ্রিল, ২০২৬: নয় বছরের এক শিশু কন্যাকে বাড়ি থেকে পাশের জঙ্গলে তোলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করার সময় গ্রামবাসীরা ত্রিশ বছরের এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তোলে দেয়।
কিন্তু, এই ঘটনায় থানার ওসি নয় বছরের কন্যার মায়ের লিখিত অভিযোগ নিতে নারাজ। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনা কৈলাসহরের ডলুছড়া এলাকায়।
উল্লেখ্য, কৈলাসহরের ভগবান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই নং ওয়ার্ডের ডলুছড়া এলাকার নয় বছরের সীতা দাস (কল্পিত নাম) নামে এক কন্যাকে বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ নিজ বাড়িতে তোলে নিয়ে যায় একই এলাকার বুছুদ আলী।
নয় বছরের কন্যাকে বাড়ি থেকে তোলে নিয়ে পাশের জঙ্গলে জোর করে ধর্ষণ করতে শুরু করে এবং সীতা দাস চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে হাতেনাতে ধরে ফেলে বুছুদ আলীকে।
ঘটনার সময় সীতার মা, বাবা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। সীতার মা এবং বাবা দুইজনই ইট ভাট্রার শ্রমিক। প্রতিদিন সকালে সীতার মা এবং বাবা কাজের জন্য ইট ভাট্রায় চলে যান এবং সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন।
প্রতিদিনের ন্যায় আজও সীতার মা এবং বাবা ইট ভাট্রায় সকালে চলে যাবার পর বুছুদ আলী সীতার বাড়িতে এসে জোর করে সীতাকে তোলে নিয়ে যায়। অন্যদিকে গ্রামবাসীরা বুছুদ আলীকে আটক করে সীতার মা এবং বাবাকে খবর দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে মা এবং বাবা আসার পর কৈলাসহর মহিলা থানায় খবর দেয়।
খবর পেয়ে কৈলাসহর মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বুছুদ আলীকে গ্রেফতার করে এবং সীতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় আসার পর কৈলাসহর মহিলা থানার ওসি স্বর্না দেববর্মা নাটক শুরু করে।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, কৈলাসহরের এক দলিল লিখক এবং ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের এক সিকিউরিটি গার্ডের মধ্যস্থতায় মোটা অংক দেওয়া হয়েছে কৈলাসহর মহিলা থানার ওসি স্বর্না দেববর্মাকে।
ওসি স্বর্না দেববর্মা মোটা অংক পেয়ে নয় বছরের কন্যার মায়ের লিখিত অভিযোগ নিতে নারাজ। নয় বছরের কন্যার মা লিখিত অভিযোগ ওসি-এর নিকট জমা দেওয়ার সময় ওসি স্বর্না দেববর্মা জানান যে, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে(Suo Motu) মামলা নেবে। কিন্তু নয় বছরের কন্যার মা তাতে রাজি ছিলেন না।
পরবর্তী সময়ে নয় বছরের কন্যার মা সংবাদ মাধ্যমের দারস্থ হলে ওসি স্বর্না দেববর্মা নয় বছরের কন্যার এবং মায়ের জবানবন্দী নিয়ে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মেডিকেল করিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, কৈলাসহর মহিলা থানার লকআপে থাকা অবস্থায় এক দলিল লিখক বুছুদ আলীর স্বাক্ষর কাগজে নেয় আদালতে জামিনের আবেদন করার জন্য।
সবকিছু মিলে দিনমজুর পরিবারের নয় বছরের কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় কৈলাসহর মহিলা থানার ওসি এভাবে প্রকাশ্যে এত নীচে নামতে পারে তা কারোর বিশ্বাস হচ্ছে না।
ওসি স্বর্না দেববর্মার এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় গোটা কৈলাসহর মহকুমার মানুষ ছি: ছি: করছেন।








