তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে দোল উৎসব, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে যে বসন্ত উৎসবের সূচনা করেছিলেন তা আজ আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে: মেয়র

প্রগতি ত্রিপুরা, ১০ মার্চ, ২০২৬: তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে দোল উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই দোল উৎসবের উদ্বোধন করে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, রাজ্যের সমৃদ্ধ কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বসন্ত উৎসবের মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যের মিশ্র সংস্কৃতির প্রসার এবং তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। কারণ রাজ্যের অন্যতম বিশেষত্ব হল বৈচিত্রময় সংস্কৃতি।

রাজ্যের বিভিন্ন জাতি-জনজাতির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য দপ্তর বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাচ্ছে। এরফলে রাজ্যের শিল্পীরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছেন। মেয়র বলেন, প্রায় এক শতাব্দি আগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে যে বসন্ত উৎসবের সূচনা করেছিলেন তা আজ আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে। বসন্ত ঋতুকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মিলন সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের মধ্যে দোল উৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বয়ে আনে। মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, সাফল্য, ব্যর্থতা থাকলেও এই উৎসব একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য বলেন, দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমায়ও দোল উৎসব উদযাপন করা হচ্ছে। রাজ্যের শিল্পীদের উৎসাহিত করতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সারা বছর ব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। রাজ্যের জাতি-জনজাতি অংশের মানুষের মিশ্র সংস্কৃতিকে বহিরাজ্যে তুলে ধরার লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের আয়োজনও করা হচ্ছে। দপ্তরের এই প্রচেষ্টা আগামীদিনেও জারি থাকবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীগণ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

Leave a Comment