অনলাইন ডেস্ক,১১ জানুয়ারী, ২০২৬: স্বদেশ প্রেম জাগরিত হলে দেশ, রাজ্য ও সমাজ এগিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যেই এই স্বদেশী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প উদ্যোগী ও স্বসহায়ক দলগুলি উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বদেশী পণ্য বাজারজাতকরণ ও ক্রয়, বিক্রয় বাড়ানোর জন্য ভোকাল ফর লোকালের ডাক দিয়েছেন।
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা আজ স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত স্বদেশী মেলার তৃতীয় সন্ধ্যায় সম্মানিত অতিথির ভাষণে একথা বলেন। আগরতলা পুর নিগম স্বদেশী মেলার আয়োজন করেছে। ৫ দিনব্যাপী মেলা চলবে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই মেলা দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রয়েছে।
মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা ও স্বদেশী পণ্য ক্রয় করে স্ব-উদ্যোগীদের উৎসাহিত করা ও ক্ষমতায়ন করা। অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা আগরতলা পুর নিগম প্রথমবারের মতো এই স্বদেশী মেলার আয়োজন করায় উদ্যোক্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্বদেশী মেলা মানে স্বদেশী ভাবনায় আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।
স্বদেশী মেলার মাধ্যমে আমরা স্বদেশী পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারবো। তিনি বলেন, আমরা নিজে আত্মনির্ভর হলে রাজ্যও আত্মনির্ভর হবে। রাজ্য সরকার রাজ্যের সর্বত্র সমানভাবে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস নিয়েছে। রাজ্য সরকার ইউনিটি মল গড়ার প্রয়াস নিয়েছে। স্বসহায়ক দলের সদস্য সদস্যাগণ ও রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীগণ যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বহু প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
তিনি এই স্বদেশী মেলার সফলতা কামনা করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, আজ আমরা আত্মনির্ভর ভারত গড়ার দিকে এগিয়ে চলেছি। রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি স্বসহায়ক দল রয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এই স্বসহায়ক দলগুলিকে ১৫ হাজার কোটি টাকার লোন দেওয়া হয়েছে। লক্ষাধিক লাখপতি দিদি রয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশ আজ কৃষি, রাবার, চা, খেলাধুলা, মেট্রো রেল পরিষেবা প্রভৃতি বিষয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, বিকশিত ভারত শুধু স্লোগান নয়, আমরা চাই সকল পরিবারের স্বনির্ভরতা। রাজ্যের প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর হলেই দেশ তথা রাজ্য আত্মনির্ভর হবে। তিনি রাজ্যের উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজ্য হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প, আগর চাষ, চায়ের জন্য নিলাম কেন্দ্র স্থাপন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা, একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়, সিন্থেটিক ফুটবল মাঠ, কৃষির উন্নয়ন, এম.এস.এম.ই,, মেক ইন ইন্ডিয়া প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার প্রয়াস নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ভোকাল ফর লোকালের ডাক দিয়েছেন। আগরতলা পুরনিগম এ উদ্দেশ্যে এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আজ হাজার হাজার মানুষ এতে শামিল হয়েছেন।
তিনি বলেন, গুজরাটের লোকাল প্রোডাক্ট আজ সারা দেশে বাজারজাত হচ্ছে। প্রায় ১১টি দেশ এই প্রোডাক্ট আজ ক্রয় করছে। তিনি বলেন, এই স্বদেশী মেলা রাজ্যের অর্থনীতির বুনিয়াদকে সুদৃঢ় করবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ত্রিপুরা বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, মেলা মানে মিলন। এতে পরস্পরের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠে।
তিনি বলেন, এই স্বদেশী মেলায় অগণিত ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি প্রমাণ করে দিন দিন রাজ্যে স্বদেশী পণ্যের কদর বাড়ছে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। অনুষ্ঠানে বন্দেমাতরম গান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া গুরুকুল নৃত্যকলা আশ্রমের শিল্পীগণ বন্দেমাতরম নৃত্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মিনারাণী সরকার, আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী, অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন, আগরতলা পুরনিগমের অতিরিক্ত মিউনিসিপাল কমিশনার মিহির কান্তি গোপ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের বিভিন্ন কার্যাবলির বিষয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও শো প্রদর্শন করা হয়। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার দিলীপ কুমার চাকমা।








