প্রসেনজিৎ সরকারের মৃত্যুর বিচার দাবিতে ধর্মনগরে মিছিল এবং থানা ঘেরাও, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫: ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ সরকারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উত্তাল হয়ে উঠল ধর্মনগর শহর। “We Want Justice Prasenjit Sarkar” স্লোগান তুলে শতাধিক যুবক-যুবতী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল করে ধর্মনগর থানা চত্বরে এসে পৌঁছান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলটি থানার মূল ফটকে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কয়েকজন আন্দোলনকারী থানা চত্বরের ভিতরে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বাইরে বের করে দেয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য থানা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রসেনজিৎ সরকারের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার ৭২ ঘন্টা অতিক্রান্ত হলেও এখনো পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ পুলিশ।

প্রসেনজিৎ সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সঠিক তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাঁরা এই আন্দোলনে সামিল হন। ধর্মনগর থেকে শুরু করে গোটা ত্রিপুরা জুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি। দলমত নির্বিশেষে মৌন মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি, ধর্মনগর থানায় ডেপুটেশন—সবই হয়েছে।

কিন্তু পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনকভাবে নীরব।যুবসমাজ বিক্ষোভ মিছিল করে উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই-এর কাছে ডেপুটেশন প্রদান করে ২৪ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। তবুও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সূত্রের খবর, পাঁচ অভিযুক্ত শাসক দল বিজেপির ঘনিষ্ঠ।

এমনকি অভিযুক্ত সংগীতা ভট্টাচার্য ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আর এখানেই পুলিশের নিরবতা নিয়ে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে। এদিকে প্রসেনজিৎ সরকারের মৃত্যুর ন্যায় বিচারের দাবিতে আগরতলায় অনলাইন হোম ডেলিভারি কর্মী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এক মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার।

শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিলটি রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে এক প্রতিনিধি দল রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। অন্যদিকে, ত্রিপুরা-অসম সীমান্তের চুরাইবাড়িতেও স্থানীয় ইয়ুথ ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়।

দ্রুত ন্যায় বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্লাব সদস্যরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার।

একটি পার্সেল ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রসেনজিৎ সরকারের সঙ্গে পাঁচজনের বিবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, তিন যুবতী ও দুই যুবক প্রকাশ্যে প্রসেনজিৎ সরকারকে চরম অপমান ও নির্মমভাবে মারধর করে। এখানেই শেষ নয়—সমগ্র ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

চরম অপমান ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান প্রসেনজিৎ। পরদিন রবিবার সকালে রহস্যজনকভাবে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। জানা গেছে, প্রসেনজিৎ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।

পরিবারের তরফে ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় অভিযুক্ত সুস্মিতা ভট্টাচার্য, সংগীতা ভট্টাচার্য, সৌরভ ভট্টাচার্য, মেঘদ্বীপ ভট্টাচার্য ও পিউ ধরের বিরুদ্ধে। পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করলেও ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও একজন অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত সংগীতা ভট্টাচার্যকে অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার পদ থেকে বরখাস্ত করেছে ত্রিপুরেশ্বরী শিশু তীর্থ স্কুল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment