২৪ ঘণ্টা পর মনু নদীতে তলিয়ে যাওয়া ধর্মনগরের কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫: পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কৈলাসহর ছনতৈল এলাকায় এসেছিল ই-রিক্সা চালক জওহর কুমার ঘোষের একমাত্র ছেলে দেবজ্যোতি। মনু নদীতে তলিয়ে যাওয়া ধর্মনগরের কলেজ ছাত্র উদ্ধার হয় ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর!ফের প্রশ্নের মুখে বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা।

বুধবার দুপুরে উত্তরজেলার ধর্মনগর কলেজের প্রথম সেমিস্টারের এক ছাত্র দেবজ্যোতি ঘোষের (১৯) মৃতদেহ কৈলাসহরের মনু নদীর জলে বুধবার দুপুরে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধারের পর মৃত ছাত্রের আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মৃতদেহের ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর জেলার ধর্মনগরের শিববাড়ি এলাকার বাসিন্দা জহর কুমার ঘোষের একমাত্র ছেলে দেবজ্যোতি ঘোষ। জহর কুমার ঘোষ পেশায় ইরিক্সা চালক। ঊনিশ বছরের দেবজ্যোতি ঘোষ ধর্মনগর কলেজের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র। মৃত দেবজ্যোতি ঘোষের দাদু অজিত ঘোষের বাড়ি কৈলাসহরের ছনতৈল এলাকায় অবস্থিত। বিগত ১৫ডিসেম্বর সোমবার দেবজ্যোতি ঘোষ কৈলাসহরের ছনতৈল এলাকায় অবস্থিত দাদু অজিত ঘোষের বাড়িতে এক পারিবারিক অনুস্টানে এসেছিলো। ১৫ডিসেম্বর রাতে পারিবারিক অনুস্টান শেষ করে দেবজ্যোতি দাদুর বাড়িতে থেকে যায়।

পরের দিন ১৬ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ দাদুর বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সাথে দেবজ্যোতি মনু নদীতে স্নান করতে গিয়েছিলো। দেবজ্যোতি নিজে সাঁতার কাটতে জানতো না। মনু নদীর জলে স্নান করতে নেমে গভীর জলে তলিয়ে যায় দেবজ্যোতি ঘোষ।

সাথে সাথেই কৈলাসহর থানায় খবর দেওয়া হলে কৈলাসহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীদের, সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের, এসডিআরএফ কর্মীদের এবং টিএসআর বাহিনীকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং সবাই মনু নদীর জলে নেমে দেবজ্যোতি ঘোষকে খুঁজতে শুরু করে। মঙ্গলবার দিন রাত্র খুঁজার পর মনু নদীর জলে দেবজ্যোতি ঘোষকে পাওয়া যায় নি।

১৭ডিসেম্বর বুধবার কৈলাসহরের ছনতৈল এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয় দেবের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল কৈলাসহর মহকুমা প্রশাসনের সাথে দেখা করে দাবী জানায় যে, বিশেষ ডুবুরি এনে মনু নদীর জলে নামিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করার জন্য। পরবর্তী সময়ে কৈলাসহর মহকুমা প্রশাসনের নির্দেশ পেয়ে অজয় দেবরা কৈলাসহরের চন্ডীপুর এলাকার সাতজন বিশেষ ডুবুরি এনে মনু নদীর জলে উদ্ধার কাজে নামায়।

সেসময় মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেপুটি মেজিস্ট্রেট সঞ্জীব দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন। সকাল দশটা থেকে উদ্ধার কাজ শুরুর পর দুপুরে দেবজ্যোতি ঘোষের মৃতদেহ মনু নদীর জল থেকে উদ্ধার করে ডুবুরিরা। এব্যাপারে ডেপুটি মেজিস্ট্রেট সঞ্জীব দেববর্মা এবং ছনতৈল এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয় দেব জানান যে, গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নং ওয়ার্ডের কামরাঙ্গা বাড়ি এলাকায় মনু নদীর জল থেকে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পর বুধবার দুপুর একটা নাগাদ দেবজ্যোতি ঘোষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য কৈলাসহরের ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে, ডেপুটি মেজিস্ট্রেট সঞ্জীব দেববর্মা এও জানান যে, দেবজ্যোতি ঘোষ যখন ১৬ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে মনু নদীর জলে স্নান করতে এসেছিলেন তখন দেবজ্যোতি ঘোষের সাথে আগরতলার দুই যুবক এবং স্থানীয় এক যুবক মিলে মোট চারজন একসাথে মনু নদীর জলে স্নান করতে নেমেছিলেন। চার যুবকই সমবয়সী ছিলেন এবং সবাই নিকট আত্মীয় ছিলো।

দেবজ্যোতির মৃতদেহ উদ্ধারের পর কৌতূহলী প্রচুর সাধারণ মানুষের সমাগম হয় এবং আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। অন্যদিকে একমাত্র ছেলে দেবজ্যোতি ঘোষ মনু নদীর জলে তলিয়ে যাওয়ার খবর শোনে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই মৃত দেবজ্যোতি ঘোষের মা এবং বাবা দুজনেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

 

Leave a Comment