অনলাইন ডেস্ক, ২১ নভেম্বর, ২০২৫: ত্রিপুরা রাজ্যে মাছের চাহিদা প্রচুর। প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ মাছ খেয়ে থাকেন। এজন্য রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় মাছচাষিদের এনে মাছের উৎপাদন বাড়াতে তৎপর রয়েছে।
আজ মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে রাজ্যভিত্তিক বিশ্ব মৎস্য দিবস ২০২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস একথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজ্যে বর্তমানে বছরে মাছের উৎপাদন বেড়ে ৮৯ হাজার মেট্রিকটন হয়েছে। কিন্তু বছরে রাজ্যে মাছের চাহিদা রয়েছে ১ লক্ষ ১৯ হাজার মেট্রিকটন।
এই চাহিদা পূরণের জন্য বহিরাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়। মৎস্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্যে মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে, যাতে আর বাইরে থেকে মাছ আমদানি করতে না হয়। এই মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সর্বাত্মকভাবে রাজ্য সরকার মৎস্যচাষিদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, রাজ্যের মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রতিবছরই প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় ও মুখ্যমন্ত্রী মৎস্য সহায়ক যোজনায় মাছচাষিদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
যেমন গত বছর রাজ্যের ২৮ হাজার ৪০০টি মৎস্যজীবী পরিবারকে মাছের পোনা, খাদ্য ও বিজ্ঞানসম্মত মাছের চাষে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এবছরও ২৭ হাজার মৎস্যজীবী পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তার সাথে সাথে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের ৩৫ হাজার ৬১৫টি কৃষক পরিবারকে ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়াও আইসবক্স সহ বাইসাইকেল, মোটরবাইক, থ্রি হুইলার গাড়ি ইত্যাদি দিয়ে রাজ্যের বহু মৎস্যজীবী পরিবারকে প্রতিবছর সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এই সবকিছুর মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজ্যের মৎস্যচাষিদের মাছের উৎপাদন বাড়ানোর কাজে উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। তিনি বলেন, মাছচাষ ও প্রাণীপালনের মাধ্যমে খুব সহজেই নিজেদের আত্মনির্ভর করে তোলা যায়।
আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে এমন অনেক মাছচাষি আছেন যারা প্রতি বছর মাছচাষের মাধ্যমে ২৫ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন।
সেইসাথে তিনি জানান যে, আগামী অর্থবছরে রাজ্যের ১১০ হেক্টর পরিত্যক্ত জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষের আওতাভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সার্ভের কাজ চলছে।
তিনি মৎস্য চাষিদের এই সুবিধা গ্রহণ করার আহ্বান জানান এবং মৎস্য দপ্তরের কর্মীগণকেও মৎস্যজীবীদের পাশে থেকে এই কাজে সহায়তা করার পরামর্শ দেন।








