অনলাইন ডেস্ক, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের মাছের বাজারে কোন ফরমালেন পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। জানালেন মৎস্য দপ্তরের অধিকত্তা সন্তোষ দাস। বুধবার রাজধানী আগরতলা মৎস্য দপ্তরের অধিকত্তার কার্যালয়ে ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ কেন্দ্রীয় অন্তরস্তরীয় মৎস্য অনুসন্ধান সংস্থা (ICAR-CIFRI), ব্যারাকপুর, ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় “পীড়ণ মুক্ত মৎস্য পরিবহন ব্যবস্থার’ উপর একদিনের কর্মশালার অনুষ্ঠানে এই কথা জানালেন মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা। কর্মশালাটি ১৯শে নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে, আগরতলার পি. এন. কমপ্লেক্সে অবস্থিত মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল-ICAR-CIFRI কর্তৃক উন্নত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিগুলি সম্পর্কে মৎস্য বিষয়ক বিভিন্ন বর্গের অংশীদারদের অবহিত করা, যাতে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত মাছ পরিবহনের মাধ্যমে জীবিকোন্নয়ন সম্ভব হয়। ড. বি. কে. দাস, পরিচালক, ICAR-CIFRI-র নির্দেশনায় তৈরি ‘CIFRI-ফিস তনাভহারি’ নামের একটি অনন্য ভেষজ চেতনা নাশক পণ্যেরও প্রদর্শন করা হয়। মাছ ধরন ও পরিবহনে ব্যবহৃত এই পণ্যটি মাছের স্বাস্থ্যের ওপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায় না এবং খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
কর্মসূচিতে মোট ৯০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন-ICAR-CIFRI-র বিজ্ঞানী, আগরতলার কলেজ অব ফিশারিজের সহযোগী অধ্যাপক, মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা, হ্যাচারী মালিক, জীবিত মাছ ও বীজ পরিবহনকারীসহ ত্রিপুরার আট জেলার প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমের কর্মীরা। ড. বি. কে. দাস, পরিচালক, ICAR-CIFRI কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক শ্রী সন্তোষ দাস এবং দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা। কারিগরি অধিবেশনে, ড. এস. সি. এস. দাস, বরিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক, ICAR-CIFRI, আঞ্চলিক কেন্দ্র, গুয়াহাটি অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং কর্মশালার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন।
পরবর্তী পর্যায়ে, ICAR-CIFRI-র পরিচালক ড. বি. কে. দাস ইনস্টিটিউটের কাজ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৃষক-সহায়ক পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন, বিশেষভাবে ‘CIFRI-ফিস তনাভহারি’ তুলে ধরে। তিনি পীড়ণ মুক্ত মাছ পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে এক বিস্তৃত উপস্থাপনা করেন। তিনি আরও জানান যে, এই কর্মশালা গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত গভর্নর কনক্লেভে কৃষকদের তোলা প্রশ্নের ভিত্তিতে নেওয়া একটি উদ্যোগ। এ বছরের ১৭ অক্টোবর, ২০২৫-এ গুয়াহাটিতে অনুরূপ একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আসাম রাজ্যের স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে চমৎকার সাড়া পাওয়া গেছে।
তিনি জানান যে, পণ্যটি প্রচারের জন্য দেশের অন্যান্য রাজ্যেও অনুরূপ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। ড. এইচ. চৌধুরী, প্রধান বিজ্ঞানী, ICAR-CIFRI, ব্যারাকপুর ‘CIFRI-ফিস তনাভহারি’ উদ্ভাবনের পটভূমি তুলে ধরেন এবং তাঁর সঙ্গে ড. এস. সি. এস. দাস ও কলকাতার গ্ল্যাকস প্রা: লি:-এর কর্মকর্তারা মিলে CIFRI-ফিস তনাভহারি’ এর প্রয়োগের সরাসরি প্রদর্শন করেন। গ্ল্যাকস প্রা: লি:, কলকাতা-এর এমডি শ্রী সি. ইসলাম এবং তাঁর দল পণ্যের বাজারে কার্যকারিতা সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় অংশগ্রহনকারী প্রতিনিধি ও বিজ্ঞানী এবং গ্ল্যাকস প্রা: লি: এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা শ্রী এস. দাস, যৌথ পরিচালক শ্রী এ. দেববর্মা; কলেজ অব ফিশারিজের সহযোগী অধ্যাপক ড. এইচ. প্রিয়দর্শিনী; এফডিও শ্রী এস. দেববর্মা; মৎস্য সুপারিনটেনডেন্ট শ্রী এইচ. সরকার সহ মৎস্যকর্মী, কৃষক, হ্যাচারি মালিক, মাছ পরিবহনকারী এবং বিক্রেতারা ICAR-CIFRI-এর এই ভেষজ পণ্য উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন। এই পণ্যটি জীবন্ত মাছ পরিবহনে অক্সিজেনযুক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের সময় যে অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটে, তা কমিয়ে বহু স্টেকহোল্ডারকে উপকৃত করবে। অনুষ্ঠানে মোট ১২০ বোতল (প্রতি বোতল ১০০ মি.লি.) ‘CIFRI-ফিস তনাভহারি’ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে।








