হিমোফিলিয়ার জীবনদায়ী ওষুধের আকাল রাজ্যে, রোগীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫: হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ নেই রাজ্যের হাসপাতাল গুলির মধ্যে। চরম সংকট চলছে ওষুধের।

রোগীদের জরুরি পরিষেবার জন্য পর্যন্ত নেই বন্দোবস্ত। যেকোনো সময় জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আতঙ্কে ভুগছে রোগীরা। বিশ্ব হিমোফিলিয়া ফেডারেশনের (ডব্লিউএফএইচ) সুপারিশ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত তিনবার এএইচএফ প্রয়োগ করলে রোগীর ‘ফ্যাক্টর লেভেল’ শূন্যে নামবে না।

বুধবার আইজিএম হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় রোগী এবং রোগীর পরিবার পরিজন সহ হিমোফিলিয়া সোসাইটি আগরতলা চ্যাপ্টার।

পরে হিমোফিলিয়া সোসাইটির আগরতলা চ্যাপ্টারের সিদ্ধান্ত সাহা জানান, বর্তমানে, প্লাজমা-প্রাপ্ত এবং রিকম্বিন্যান্ট ফ্যাক্টর কনসেন্ট্রেটের তীব্র ঘাটতি রয়েছে এবং রোগীদের সময়মত চিকিৎসা পেতে প্রচণ্ড অসুবিধা হচ্ছে হাসপাতালে।

নিয়মিত প্রতিরোধ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত রিকম্বিন্যান্ট ফ্যাক্টরগুলি হাসপাতালে মজুদ নেই। পাশাপাশি অবশিষ্ট প্লাজমা-প্রাপ্ত স্টক অত্যন্ত সীমিত বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতি  হিমোফিলিয়া রোগীর জন্য, বিশেষ করে শিশুদের এবং গুরুতর হিমোফিলিয়া এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য জীবন-হুমকির মুখে, যারা অভ্যন্তরীণ রক্তপাত রোধ করার জন্য নিয়মিত ফ্যাক্টর প্রতিস্থাপনের উপর নির্ভর করে।

ক্রমাগত চিকিৎসা ব্যাহত হলে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাত, জয়েন্টের ক্ষতি, স্থায়ী অক্ষমতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এ অবস্থায় তারা এদিন রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে দাবি রাখে অবিলম্বে যেন তাদের রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষুধ পত্র সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিষেবার সুবন্দোবস্ত করা হয়।

এদিকে অপর এক রোগী জানান, এ রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে ধলাই জেলা হাসপাতাল, গোমতী জেলা হাসপাতাল, দক্ষিণ জেলা হাসপাতাল, বিলোনিয়া মহকুমা হাসপাতাল, ঊনকোটি জেলা হাসপাতাল।

এই হাসপাতাল গুলির মধ্যে জরুরি কালীন পরিষেবা নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর বাইরে দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতাল তথা আইটেম হাসপাতালে এই রোগের পরিষেবা রাখা হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে দুই ডোজ ঔষধের প্রয়োজন হয় তাদের। রাজ্যের জেলা ও মহাকুমারের পাঁচটি হাসপাতালের মধ্যে তাদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।

শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যেক সপ্তাহে দু-তিনবার বিলোনিয়া, সাব্রুম সহ দূর-দূরান্ত থেকে আইজিএম হাসপাতালে আসতে হয়। ফলে তারা এক প্রকার ভাবে অক্ষম হয়ে পড়ছে পরিষেবা নিতে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, ওষুধের কোম্পানি থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে না। তাই তাদের দ্বারা কোন কিছু করা সম্ভব নয়। বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা।

স্বাস্থ্য দপ্তরকে বহুবার চিঠি দিয়েছে। অথচ কবে নাগাদ কি সমস্যা সমাধান হবে সেটা বলে উঠতে পারছে না কেউ।

Leave a Comment