প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ অক্টোবর, ২০২৫। আগরতলা ইন্দ্রনগর এলাকায় নাবালিকা অপহরণের ঘটনায় শনিবার রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের তদন্তে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আগরতলা ইন্দ্রনগর এলাকায় ১ ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা মেয়ে অপহরণের ঘটনার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন।
এদিন শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের সদস্যা চামেলী সাহা, ঝুমা বিশ্বাস এবং মৈত্রী দেব দত্তের তিনজনের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার রাতে এই অপহরণের ঘটনার তদন্তে ছুটে যান ইন্দ্রনগর এলাকায় এবং পরে পূর্ব আগরতলা মহিলা থানায়।
এদিন কমিশনের প্রতিনিধি দলটি ইন্দ্রনগর এলাকায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে জানতে পারে নাবালিকা মেয়েটির মায়ের বেশ কিছু অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন।
না বলে কেয়া মেয়েটি মায়ের অভিযোগ ছিল শুক্রবার গভীর রাতে নাবালিকা মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বেশ কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এবং মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি তার মাকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে এবং নাবালিকা মেয়েটির মা চিৎকার করতে করতে গাড়ির পিছনে ছুটলেও গাড়িটির অদৃশ পায়নি এমনকি অপহরণকারীরা ছিল কালো কাপড়ের মুখ ঢাকা তাই তাদের কাউকেই চিনতে পারেনি এমনটাই ছিল নাবালিকা মেয়েটির মায়ের অভিযোগ।
শনিবার শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা শনিবার রাতে ঘটনার তদন্ত করে এলাকা থেকে জানতে পারে এই নাবালিকা মেয়েটি ১৭ বছরের এক নাবালক ছেলের সাথে পালিয়েছে।
এমনকি তাদের দুজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল যা নাবালিকা মেয়েটির মা এবং বাবা উভয়ই জানতো এমনকি প্রতিদিন নাবালিকা মেয়েটি ফোনে ওই নাবালক ছেলেটির সাথে কথা বলতে যা মেয়েটির মা বাবা সবকিছুই জানতো, শুধু তাই নয় প্রায়ই নাবালিকা মেয়েটি তার নাবালক প্রেমিকার বাড়িতে যাতায়াত করত। তবে শুক্রবার গভীর রাতে নাবালিকা মেয়েটি তার নাবালক প্রেমিকার হাত ধরে পালিয়ে যায়।
শনিবার রাতে পূর্ব আগরতলা মহিলা থানার পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে শুক্রবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটার পর এই অপহরণের ঘটনাটি সারা রাতে একবারও পুলিশকে জানানো হয়নি।
শনিবার সকালে নাবালিকা মেয়েটির মা এবং বাবা থানায় এসে লিখিত আকারে অপহরণের মামলা দায়ের করে। মামলায় নাকি কেউ লেখা হয়েছে মেয়েটির শরীরে চার ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিল।
শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদের এলাকার লোকজন জানিয়েছে ঘটনা ঘটেছে কিন্তু ঘটনাটি ঠিক এমন নয় যেভাবে নাবালিকা মেয়েটির মা অভিযোগ জানিয়েছে।
নাবালিকা মেয়েকে খুঁজে পেতে এবং অপহরণের মামলাটি শক্তপুত্র করার জন্য ঘটনার থেকে দ্বিগুণ কথা বাড়িয়ে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতের রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা পূর্ব আগরতলা মহিলা থানার সামনে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন তাদের তদন্তে যা উঠে এসেছে সেটাকে প্রকৃতপক্ষে জোরপূর্বক অপহরণ নয় অর্থাৎ মেয়েটি তার নিজের ইচ্ছায় তার নাবালক প্রেমিকার হাত ধরে পালিয়েছে।
তারা এদিন জানিয়েছেন এই ঘটনাটির জন্য একমাত্র দায়ী তার মা-বাবা কেননা তাদের নাবালিকা মেয়েকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি।
যদি নাবালিকা মেয়েটির মা-বাবা সঠিক ভাবের সচেতন থাকতো তাহলে তাদের নাবালিকা মেয়েটিকে আগে থেকেই এই ভুল পথে পরিচালনার জন্য দিত না, আর এই ধরনের ঘটনার জন্য একমাত্র দায়ী নাবালিকা মেয়েদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন।
এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সামাজিক মাধ্যমে ছেলেদের সাথে যোগাযোগ করে প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তার থেকে ভালবাসার সম্পর্ক এবং শেষে ছেলের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া।
কিন্তু রাজ্যে এমন অনেক অসচেতন অভিভাবকরা যখন তাদের নাবালিকা মেয়েদের সাথে এই ধরনের ঘটনা ঘটে তখন তারা থানায় মামলা করতে গিয়ে অভিযোগ পত্রে লিখেন যে মেয়েটিকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়েছে কিন্তু প্রকৃত সত্য কথাটি তখন কোন অভিভাবকরাই লিখেন না কেননা প্রকৃত সত্য কথাটা লিখলে হয়তো মামলাটি পুলিশ হালকাভাবে নেবে যার ফলে মামলাটিকে শক্তপুক্ত করার জন্য এই ধরনের কথাগুলি উল্লেখ করে। ইন্দ্রনগর এর ঘটনাটি ও ঠিক একই কায়দায় হয়েছে।
যদিও পূর্ব আগরতলা মহিলা থানার ওসি এদিন শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধারে জোর প্রক্রিয়া জারি রেখেছে পুলিশ, অতএব খুব শীঘ্রই পুলিশ এই নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এদিন শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা আরো জানিয়েছেন রাজ্যে যেন এই ধরনের ঘটনা আর একটিও না হয় তার জন্য প্রথমে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, তাদের সন্তানদের দিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে এবং নাবালিকাদের মোবাইল থেকে তাদেরকে দূরে রাখতে হবে তাহলেই হয়তো রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা আগামী দিনে কম হবে।








