প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। পুজোর মুখে কুমারঘাট মহকুমায় প্রকট হয়েছে বিদ্যুৎ চপলতা।
দিন হোক কিংবা রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লেগে রয়েছে বিদ্যুতের বিভ্রাট। এতে ভোগান্তির শিকার ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে খুব উগরে দিলেন আমজনতা। ভোক্তাদের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগের তাই স্বীকার করলেন নিগমের সিনিয়র ম্যানেজার।
ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমা জুড়ে শারদ উৎসবের মুখে শুরু হয়েছে প্রবল বিদ্যুৎ চপলতা। শহর হোক কিংবা গ্রাম সব জায়গাতেই বিদ্যুৎ সফলতায় কার্যত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা।
পুজোর সময়ে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা ক্ষোভ উপড়ে দিলেন বিদ্যুৎ নিগমের পরিষেবা নিয়ে।
রাজ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রী সহ নিগমের বড় বড় কর্তারা মুখে যাই বলুন না কেন বাস্তবে বিদ্যুৎ পরিষেবা বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ।
শারদ উৎসবের প্রাক মুহূর্তে পালা করে চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার শহর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হয়ে কার্যত ক্ষোবে হোসেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুতের সফলতার জেরে পূজোর সময়ে ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরকে। এ বিষয়ে কুমারঘাট শহর এলাকার সমীরদের নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুতের সমস্যায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে।
তিনি বলেন মিটারে অগ্রিম রিচার্জ করেও সঠিক মত মিলছেনা পরিষেবা। দিনেতো বটেই, রাতেও বিদ্যুতের এই চপলতার শিকার হতে হচ্ছে তাদেরকে। তিনি বলেন পুজোর আগে লাইন মেরামতির নামে পরিষেবা বন্ধ রেখে লাইন সারাইএর কাজ করেছিল বিদ্যুৎ নিগম।
কিন্তু তাও এখন কেন এত সমস্যা প্রশ্ন তোলেন ঐ ব্যবসায়ী। কারণ পূজোর মুখে এই বিদ্যুৎ চপলতা প্রভাব ফেলেছে তাদের পুজোর বিক্রিতে।
তিনি বলেন, পূজোর দিনগুলোতে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে পুরোটাই ম্লান হবে পুজোর আনন্দ। এদিকে শহর ছাড়িয়ে গ্রামের অবস্থাও তথৈবচ।
কুমারঘাট শহর সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকা ফটিকরায় বাজারের প্রবীণ দাস নামে এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি ঘন্টায় পাঁচ থেকে ছয় বার আসা-যাওয়া করছে বিদ্যুৎ। দিন কিংবা রাত সবসময়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট লেগে রয়েছে এলাকাজুড়ে।
এতে করে রাতে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরকে। দোকানে ক্রেতারা রাতের বেলা কেনাকাটা করতে আসলেই চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে আলোর অভাবে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই।
ব্যবসায়ী প্রবীণ দাস বলেন, পূজোর সময়ে এই বিদ্যুৎ সফলতা খুব বেশি সমস্যায় ফেলছে তাদেরকে। পূজোতে বিক্রির জন্য দোকানে বিভিন্ন সরঞ্জাম ইনি রাখলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে সেসব বিক্রিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে।বাইট—প্রবিন দাস।
এদিকে বিদ্যুৎ পরিষেবার এই অচলাবস্থা নিয়ে প্রদীপ সরকার নামে কুমারঘাট শহরের এক ব্যবসায়ী জানান, এমনিতেই খারাপ অবস্থা চলছে ব্যবসার তার উপর ঘনঘন বিদ্যুৎ চপলতায় ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিক্রেতাদেরকে।
তিনি বলেন বিদ্যুতের জন্য অগ্রিম রিচার্জ করেও মিলছে না পরিষেবা। তিনি অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে অফিসে যোগাযোগ করলেও তেমন কোন সাড়া মেলেনা অফিস থেকে। তিনি বলেন বিদ্যুৎ না থাকার ফলে রাতে ক্রেতারা আসতে চান না দোকানে।
বিদ্যুৎ চপলতার কারনে নষ্ট হয়েছে তার দোকানের ফ্রিজে থাকা বহু মূল্যের আইসক্রিম। এতেকরে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীকে। ব্যবসায়ী ক্ষোভ উপড়ে দিয়ে বলেন, দপ্তরকে অগ্রিম টাকা দিয়ে এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না।বাইট—প্রদীপ সরকার।
এদিকে গ্রাহকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নিগমের কুমারঘাট বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার অনুপ কুমার বোসকে জিজ্ঞেস করা হলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ চপলতার অভিযোগকে কার্যত স্বীকার করে নিলেন সিনিয়র ম্যানেজার।
যদিও নিজেদের ব্যর্থতার মুখ ঢাকতে ম্যানেজার বললেন পুজোর সময়ে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছে বিদ্যুৎ নিগমের কুমারঘাট বিভাগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলে একপ্রকার জোর গলায় বললেন নিগমের কর্তা।
এদিন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সফলতার অভিযোগের প্রসঙ্গে সিনিয়র ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সঠিক সময়ে লাইন মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তাই এখনো পরিষেবা মাঝে মাঝে বন্ধ রেখে কাজ করতে হচ্ছে তাদেরকে।
তিনি জানান, পূজোর দিনগুলোতে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে ফটিকরায় এবং কুমারঘাট অফিসে পুজোর চারদিন ২৪ ঘন্টাই নিয়োজিত রাখা হচ্ছে কর্মীদেরকে।
পুজোর সময়ে কোন বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিলে তা যাতে দ্রুত সারাই করা যায় এরজন্য নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত গাড়ি।
বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে নিগমকর্তারা নিজেদের সাফাই গাইতে যাই বলুন না কেন, বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ নিগমের পরিষেবা গিয়ে ঠেকেছে একেবারে তলানিতে।
এনিয়ে ক্ষোব ধুমায়িত হচ্ছে গ্রাহকদের মধ্যে। কুমারঘাট শহরের বুকেই শারদ উৎসবের সময়ে ঘনঘন পাওয়ার কাটে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে আমজনতাকে।
পুজোর দিনগুলোতে বিদ্যুতের সমস্যা আরো প্রকট হলে তার রেশ যেকোনো সময় যে নিগমের অফিসে আছড়ে পড়বে না নেই তার কোন নিশ্চয়তা। আগে থেকেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে পূজোর সময়ে হয়তো অনেকটাই এড়ানো যেত বিদ্যুৎ চপলার এই বিষয়টি।
এমনটাই বক্তব্য নিগমের একাংশ অভিজ্ঞ মহলের।অনেকে ব্যঙ্গ করে বলছেন এটাও ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের আরো এক প্রতিচ্ছবি।








