কুমারঘাটের আশ্রমপল্লীতে নগরবন পার্কের উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: কুমারঘাটের আশ্রমপল্লীতে আজ বনদপ্তরের নগরবন পার্কে আয়োজিত হয় উনকোটি জেলা ও মহকুমা ভিত্তিক ৭৬তম বনমহোৎসব। একই সাথে উদ্বোধন হয় কুমারঘাট নগরবন পার্কেরও। দু’টি অনুষ্ঠানেরই উদ্বোধন করেন বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস। ৪০ একর জমিতে প্রকৃতির মনোরম কোলে গড়ে উঠেছে এই পার্ক।

এখন পর্যন্ত এই পার্ক তৈরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। পার্কে রয়েছে শিশু উদ্যান, কফি হাউস, সভিনির সপ, বিশাল জলাশয়ে বোটিং-এর ব্যবস্থা। আজ থেকে কুমারঘাটের নগরবন পার্ক জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস বলেন, পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখতে ও নির্মল রাখতে শুধুমাত্র গাছ লাগালেই চলবে না, গাছ লাগানোর পাশাপাশি তাকে বাঁচাতেও বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, নগরবনের বৈশিষ্ট হল বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বজায় রেখে এর উন্নয়ন ঘটানো। আগামী দিনে মোট ২৫০ কানি জমিতে গড়ে তোলা এই নগরবনের উন্নয়ন ঘটানো হবে। যাতে রাজ্যের ও বহিরাজ্যের পর্যটকরা এখানে এসে পরিবার সহ কিছু সময় কাটাতে পারেন। অনুষ্ঠানে ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস বলেন, আজকের দিনটি কুমারঘাটবাসীর জন্য স্মরণীয় দিন।

তিনি বন দপ্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নগরবনে আয়োজন করতে পরামর্শ দেন। তবেই নগরবনের প্রচার ও প্রসার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, আমাদের জীবনের সাথে বন জড়িয়ে রয়েছে। গাছপালা, বন না থাকলে জীবনেরও কোন অস্তিত্ব থাকবে না। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সমাজসেবী পবিত্র দেবনাথ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা বনাধিকারিক কৃষ্ণ গোপাল রায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কানু মালাকার। উপস্থিত ছিলেন কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস, মহকুমা শাসক এন এস চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ বনমহোৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বসে আঁকো প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন।

এছাড়া দু’টি স্বসহায়ক দলকে তাদের ব্যবসার জন্য দ্বিতীয় কিস্তিতে ১ লক্ষ টাকা করে ঋণের চেক ও একটি স্বসহায়ক দলকে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকার ঋণের চেক প্রদান করা হয়। কুমারঘাটের নগরবনের রক্ষণাবেক্ষণের ও পরিচালনার জন্য জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির অন্তর্গত ৩টি স্বসহায়ক দলকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

Leave a Comment