সামান্থার ক্যারিয়ারে যোগ করতে চলেছে এক নতুন মাইলফলক

অনলাইন ডেস্ক, ১৬ জুন, ২০২৬: বহুল প্রতীক্ষিত তেলেগু পারিবারিক অ্যাকশন-ড্রামা ‘মা ইন্তি বাঙারাম’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শিত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলো একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। এবার পরিপূর্ণ ভিন্ন অবতারে দেখা দেবেন দক্ষিণী তারকা সামান্থা রুথ প্রভু। তারএই ফ্যামিলি অ্যাকশন ড্রামাটি একদিকে যেমন দর্শকের জন্য ভরপুর বিনোদন নিয়ে আসছে, অন্যদিকে সামান্থার ক্যারিয়ারে যোগ করতে চলেছে এক নতুন মাইলফলক। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী তুলে ধরেছেন কীভাবে অল্প বয়সে পাওয়া সাফল্য তাঁর মানসিকতাকে প্রভাবিত করেছিল, প্রত্যাশার চাপে তিনি যে কতটা চালিত হয়েছিলেন তা স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন কীভাবে স্বাস্থ্যগত কারণে নেওয়া বিরতি তাঁর কর্মজীবন ও জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছিল।

তিনি ‘বলেন, “এটা আমার কাছে খুবই আশ্চর্যজনক ছিল যে, একেবারে সাধারণ একটা শহর থেকে আসা একটি মেয়ে তারকাখ্যাতি লাভ করেছে এবং মানুষ আমাকে ভালোবাসছে। বড় পর্দায় তারা আমাকে ভালোবাসছিল। তারা আমার সিনেমা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তারা আমার নাম ধরে চিৎকার করছে। এই বিস্ময় নিয়েই আমি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। আমি তারকাখ্যাতির খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম… আমার মনে আছে, এক বছরে আমি পরপর পাঁচটি সিনেমা করেছিলাম এবং সবগুলোই হিট হয়েছিল, তাই মানুষ ভেবেছিল আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন, এবং আমি বিশ্বাস করতাম যে আমার সেই প্রত্যাশা পূরণ করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, কীভাবে তাঁর সাম্প্রতিক বিরতি তাঁকে কাজ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে এবং তাঁর সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক ধরনের স্পষ্টতা এনে দিয়েছে।

“সম্প্রতি যখন আমাকে বিরতি নিতে হয়েছিল, তখন আমি সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলাম। আমি অনেক ছবি করতে চেয়েছিলাম এবং তা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমি কখনও ভাবিনি যে অবসর বলে কিছু থাকবে। একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি এতটাই অহংকারী হয়ে যান যে আপনি কোনো শেষ দেখতে পান না; আপনি এর কোনো শেষ আছে তা মানতে অস্বীকার করেন। এই সাম্প্রতিক বিরতির পর, আমি আমার জন্য সেই শেষটা কল্পনা করতে পেরেছি, এবং এটি সত্যিই আমাকে নানাভাবে বদলে দিয়েছে। বিরতির সময় আমি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেমন, বিরতির পর যদি আমি এই পেশায় ফিরে আসি, তাহলে আমাকে অনেক কিছু, অনেক পুরোনো অভ্যাস বদলাতে হবে।” সিনেমাটির মূল আকর্ষণ এর ছকভাঙা ও নারীকেন্দিক গল্প। এখানে সামান্থাকে দেখা গেছে এমন এক নতুন গৃহিণীর চরিত্রে, যে সংসারী বা আদর্শ পুত্রবধূ হওয়ার সব চেষ্টায় ব্যর্থ।

সে রাঁধতে পারে না, ঘর গোছাতে পারে না, এমনকি মুখে লাগামও দিতে জানে না! কিন্তু এই সাধারণ রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে সেই গৃহিণীর এক রহস্যময় অতীত। পরিবারের ওপর যখনই কোনো বড় বিপদ আসে, নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ না করেই সে হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। অতীত থেকে আসা এক ভয়ংকর শত্রুর মুখোমুখি হয়ে সে শান্ত পুত্রবধূর খোলস ছেড়ে এক রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। ‘মা ইন্তি বাঙারাম’ পরিচালনা করেছেন ‘ওহ! বেবি’ সিনেমার পরিচালক নন্দিনী রেড্ডি। সামান্থার ভেতরের সাবলীল ও সেরা অভিনয় বের আনতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন নন্দিনী। বিশেষ করে বাসের ভেতর শাড়ি পরা সামান্থার সেই পোস্টার লুকটি যখন পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে, দর্শক হাততালি দিতে বাধ্য হন। সামান্থার চোখেমুখে ছিল তীব্র দৃঢ়তা।

সামান্থা রুথ প্রভু বরাবরই চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙেছেন, আবার গড়েছেন। আসন্ন সিনেমায় তিনি কোনো বডি ডাবল ছাড়াই প্রায় সব ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য সম্পন্ন করেন। এতে চরিত্রটির প্রতি তার সততা ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে। সহ-অভিনেতা হিসেবে গুলশান দেবাইয়া ও দিগন্ত নিজেদের চরিত্রে ছিলেন দারুণ সাবলীল। সিনমোটির প্রতিটি দৃশ্যকে জমজমাট করে তুলেছে সন্তোষ নারায়ণনের আবহ সংগীত। নির্মাতা রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে বিয়ের পর এটি সামান্থার অন্যতম সেরা কাজ। যারা গতানুগতিক ড্রামার বাইরে ভরপুর অ্যাকশন, টুইস্ট ও ইমোশনের পারফেক্ট মেলবন্ধন দেখতে আগ্রহী, তাদের জন্য একেবারে পারফেক্ট সিনেমা ‘মা ইন্তি বাঙারাম’। ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন গুলশান দেবাইয়া এবং দিগন্ত মানচালে। পাশাপাশি পার্শ্ব চরিত্রে রয়েছেন গৌতমী তাদিমাল্লা, শ্রীমুখী, মঞ্জুষা এবং শ্রীনিবাস গাভিরেড্ডি। ছবিটি মূলত ১৪ই মে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও, পোস্ট-প্রোডাকশন এবং প্রচারমূলক কাজের জন্য পরে তা স্থগিত করা হয়। এখন এটি ১৯শে জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে।

Leave a Comment