সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রূপায়ণ করতে হবে, আধিকারিকদের আরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে :মৎস্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২৪ জুন, ২০২৫: সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রূপায়ণ করতে হবে। আধিকারিকদের আরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে আরও বেশি বেশি মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া যায়।

আজ ধর্মনগরে উত্তর ত্রিপুরা জেলাভিত্তিক এক পর্যালোচনা সভায় এই কথাগুলি বলেন রাজ্যের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস।

উত্তর ত্রিপুরা জেলাশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে মৎস্য, প্রাণীসম্পদ বিকাশ ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের জেলাভিত্তিক পর্যালোচনা সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরে একাধিক প্রকল্প রয়েছে। তার মধ্যে কোন প্রকল্পগুলি কোন সময়ে রূপায়ণ করলে মানুষ তার সুবিধা নিতে পারবে, তা বুঝতে হবে।

সেই অনুযায়ী অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পগুলি রূপায়ণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।

এদিনের পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিনয়ভূষণ দাস, বিধায়ক যাদবলাল দেবনাথ, বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, জেলার চারটি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, বিএসি’র চেয়ারম্যান, ধর্মনগর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন মিতালী রাণী দাস সেন, উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি ভবতোষ দাস, মৎস্য, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, প্রাণীসম্পদ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. নীরজ কুমার চঞ্চল, উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে, ধর্মনগরের মহকুমা শাসক সজল দেবনাথ, পানিসাগরের মহকুমা শাসক সুশান্ত দেববর্মা, মৎস্য, প্রাণীসম্পদ বিকাশ ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের জেলাস্তরের আধিকারিক, জেলা শিক্ষা আধিকারিক, জেলার আটটি ব্লকের বিডিও প্রমুখ।

মৎস্য দপ্তরের পর্যালোচনায় ২০২৪-২৫ অর্থ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে কতটা সফলতা এসেছে তা যেমন পর্যালোচনা করা হয়, পাশাপাশি চলতি বছরের লক্ষমাত্রা কি রয়েছে তাও আলোচনা করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য সহায়ক যোজনায় জেলার ১৭৪ জনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মৎস্য বিকাশ যোজনায় সুবিধা পেয়েছেন ১৬০০ জন। কেসিসি-তে ঋণ পাবার জন্য আবেদন করেছেন ৬৫৩ জন মৎস্য চাষি। ১৫৩৭ জন মৎস্যচাষির জলাশয়ের জল পরীক্ষা করা হয়েছে। মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে ৮৭ জন মৎস্যচাষির।

প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পর্যালোচনায় দপ্তরের উপ অধিকর্তা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬৭০টি পশু পাখীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়।

এর মধ্যে ৭৫ হাজার ৪১৬টি পশু-পাখীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃত্রিম পদ্ধতিতে গো-প্রজনন করা হয় ৯৫১০টি।

চলতি অর্থবছরে ১৫৯২০টি কৃত্রিম গো-প্রজনন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের পর্যালোচনায় স্কলারশিপ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

তপশিলিজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীরা যাতে প্রি-মেট্রিক ও পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য আধিকারিকদের আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী নির্দেশ দেন।

Leave a Comment