উন্মত্ত বন্য দাঁতাল হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ট গ্রামবাসীদের জনজীবন, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস মন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক, ০৯ জুন, ২০২৫: তেলিয়ামুড়া মহকুমার ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারানীপুর কপালি টিলা এলাকায় জীবনের প্রতিটি দিন যেন এক ভয়াবহ পরীক্ষার মতো। গ্রামবাসীরা দিনের আলোয় কাজ করতে এবং রাতের অন্ধকারে ঘুমোতে ভয় পান—কারণ, যে কোনও সময় তাদের ঘরে হানা দিতে পারে উন্মত্ত বন্য দাঁতাল হাতি।

কৃষিজমি নষ্ট হওয়া, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া, এমনকি প্রাণহানি—এ যেন এখন এই অঞ্চলের একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রীতি এই এলাকায় দুইজন গ্রামবাসী বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের পরিবারগুলোর মধ্যে একজন কিছুটা সরকারি ক্ষতিপূরণ পেলেও অপরজন এখনো কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাননি। এই অসাম্যের প্রসঙ্গটি উঠে আসে যখন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মা নিজে উপস্থিত হন মহারানীপুর এলাকায় এবং গ্রামবাসীদের উঠোনে বসে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে গ্রামবাসীরা তাদের দীর্ঘদিনের বেদনার কথা নির্ভয়ে ব্যক্ত করেন।

বিশেষ করে বন্য হাতির তাণ্ডবে ফসল নষ্ট হওয়া, প্রাণহানির ঘটনার ক্ষতিপূরণ না পাওয়া, এবং নিরাপত্তাহীনতা—এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁরা জানান, প্রশাসনের তরফে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়; বন্য হাতিদের প্রতিরোধে বাস্তবমুখী ও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে। মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে বন দপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বাকি সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।

তিনি আরও আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আগামী দিন আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গ্রামবাসীরা  শুধু বন্য হাতির সমস্যা নয়, বরং রাস্তাঘাট, পানীয়জল, বিদ্যুৎ এবং শিক্ষার মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর কথাও তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাঁদের ধৈর্য ধরে শোনেন এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেন। মহারানীপুরের এই ঘটনা শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, বরং তা রাজ্যের বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তবতা। মানুষের জীবন ও জীবিকা যেখানে বন্য প্রাণীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষে জর্জরিত, সেখানে প্রশাসনিক তৎপরতা ও মানবিক সহমর্মিতা একান্ত প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এই সরাসরি অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি আশার আলো।

Leave a Comment