অনলাইন ডেস্ক, ৩০ মে, ২০২৫ : নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে পরিবর্ধিত করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন ১০০ দিনে ২১টি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। তারমধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াগত সংস্কার, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সংশ্লিষ্ট নির্বাচকদের অংশগ্রহণ ইত্যাদি। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এই পদে দায়িত্বভার গ্রহণের পর ১০০ দিনের মধ্যে তিনি বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নতুনরূপে সাজানোর জন্য তার পরিকল্পনা তিনি নির্বাচন কমিশনার ডা. সুখবীর সিং সন্ধু এবং ডা. বিবেক যোগীর উপস্থিতিতে ২০২৫-এর মার্চে অনুষ্ঠিত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকদের সম্মেলনে তুলে ধরেন।
ভোটাররা যাতে বেশি সংখ্যায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেজন্য তিনি প্রতি ভোট কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোটার-এর সংখ্যা ১৫০০ থেকে কমিয়ে ১২০০ ভোটার করেন। ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় যেমন গেটেড সোসাইটি কিংবা বহুতল আবাসনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পোলিং বুথ দেওয়া হবে। কোন ভোটারকে যেন ভোটদানের জন্য ২ কিমি-এর বেশি দূরত্বে যেতে না হয় তিনি তার বন্দোবস্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন। ভোটার ইনফরমেশন স্লিপটিকে নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এতে উল্লিখিত সিরিয়্যাল নম্বর ও পার্ট নম্বর সহজেই দৃশ্যমান হয়। ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রবেশ দ্বারে মোবাইল ফোন জমা করার ব্যবস্থা থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলির বুথ এখন ভোটকেন্দ্র থেকে ২০০ মিটারের পরিবর্তে ১০০ মিটার চৌহদ্দির বাইরে খোলা যাবে।
বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্য ৪০ টির বেশি অ্যাপ/ওয়েবসাইট রয়েছে। এই পদ্ধতিকে আরও সহজ সরল করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন ইন্টারফেস তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমস্ত পরিষেবা একই স্থানে প্রদানের লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড ড্যাশবোর্ড ইসিআইএনইটি তৈরি করা হয়েছে। ইসিআইএনইটি-এর কিছু মডিউল বর্তমানের উপনির্বাচনে পাওয়া যাবে এবং বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে সমস্ত পরিষেবাগুলি এই ইন্টারফেসে পাওয়া যাবে।
নির্বাচক তালিকা থেকে সময়মত ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই এর পর মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার ডাটাবেস থেকে মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। ক্ষেত্রীয় পর্যায়ে তথ্য যাচাই করে সর্বশেষ তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বিএলওরা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।আর পি অ্যাক্ট ১৯৫০ অনুসারে উপ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিশেষ সামারি রিভিশন সম্পন্ন করা হয়েছে। উপ নির্বাচনের অংগে এটা সর্বপ্রথম এ জাতীয় অনুশীলন।
রাজনৈতিক দলগুলির নিয়মিত আলোচনার ব্যবস্থা করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন সারা দেশে ৪,৭১৯টি বৈঠকের আয়োজন করেছে যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৮,০০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন।
এই বৈঠকগুলির মধ্যে ৪০টি ছিল সিইও পর্যায়ে, ৮০০টি ছিল ডিইও পর্যায়ে এবং ৩,৮৭৯টি ছিল ইআরও পর্যায়ে। তাছাড়া, আপ, বিজেপি, সিপিআই (এম), এনপিপি-এর মত বড় রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃবৃন্দের সাথে নয়াদিল্লিতে কিছু বৈঠক হয়েছে। এই উপ নির্বাচনের পর জাতীয় ও রাজ্যন্তরীয় রাজনৈতিক দলগুলির সাথে আরও কিছু বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন বিএলও, বিএলও সুপারভাইজার এবং বিএলএদের জন্য প্রশিক্ষণের সুবিধা সম্প্রসারিত করেছে। ৩,৫০০ জনের বেশি বিএলও/বিএলও সুপারভাইজার ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি এন্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট (আইআইআইডিইএম)-এ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আগামীদিনে ১ লক্ষের বেশি বিএলও সুপারভাইজাররা আবার ১০.৫ লক্ষাধিক বিএলওকে প্রশিক্ষণ দেবেন।
এ বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি ২০টি ব্যাচে আরও প্রায় ৬০০০ বিএলও/বিএলও সুপারভাইজারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তখন বিহার, তামিলনাড়ু, পুদুচেরী, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, আসাম-এর রাজ্যগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কেননা সেখানে অদুর ভবিষ্যতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএলওদের যাতে সহজে চিহ্নিত করা যায় এবং পরিষেবা নেওয়া যায় সেজন্য তাঁদের এক রকম সচিত্র পরিচযাপত্র দেওয়া হবে। আইআইআইডিইএম-এ রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ-দেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিহার, তামিলনাড়ু, পুদুচেরীকে দিয়ে শুরু হয়েছে বিএল এ প্রশিক্ষণ।
সময়মত ও উপযুক্ত জন সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিইও মিডিয়া সেল-এর আধিকারিকদেরও মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন করানো হয়েছে। নির্বাচনে একাধিক পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিহার থেকে পুলিশ আধিকারিকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ২৮ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত অংশীদারদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।
‘প্রশিক্ষণের মডিউলগুলি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ ও ১৯৫১, রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টর্স রুলস ১৯৬০, কন্ডাক্ট অব ইলেকশন রুলস ১৯৬১ ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের সময় সময় জারি করা নিয়ম মোতাবেক তৈরি করা হয়েছে। এদের সবাই আইআইআইডিইএম-এ প্রশিক্ষণ নেবে। অন্যান্য সংস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে কমিশনের সদর কার্যালয়ে বায়োমেট্রিক এটেন্ডেন্স চালু করা, ই-অফিস সিস্টেম, নিয়মিত সিইও পর্যায়ে বৈঠিক ইত্যাদি। আভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন নয়া দিল্লির আইআইআইডিইএম-এ কাউন্সেলদের নিয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সুপ্রীম কোর্ট এবং সারা দেশের ২৮টি হাইকোটের বরিষ্ঠ আইনজীবী, বিভিন্ন রাজ্য/ইউটি’র ৩৬ জন সিইও ও অন্যান্য আধিকারিকগণ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। নিত্য নতুন সমস্যার দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে কমিশন তার আইনি ব্যবস্থা ও কাঠামোকে পুনর্বিন্যাস করার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করে। ভারতের নির্বাচন কমিশন থেকে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








