অনলাইন ডেস্ক, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র উদয়পুরের মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে কৌশিকী অমাবস্যা তিথি উপলক্ষে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল পুণ্যার্থীদের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, এমনকি বহিঃরাজ্য থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এদিন ভোরেই মন্দির চত্বরে উপস্থিত হন মা ত্রিপুরেশ্বরীর দর্শন ও পুজো অর্চনার উদ্দেশ্যে।
হিন্দু সনাতন ধর্মে কৌশিকী অমাবস্যা একটি অত্যন্ত পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ তিথি হিসেবে স্বীকৃত। এই বিশেষ দিনে মায়ের আরাধনা করলে ভক্তদের সকল মনস্কামনা পূর্ণ হয়—এমনটাই বিশ্বাস ভক্তকুলের। এই তিথিকে কেন্দ্র করে এদিন মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ পুজো, যজ্ঞ, বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ এবং সন্ধ্যারতি সহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিনের মূল আকর্ষণ ছিল মায়ের বিশেষ অলংকার সাজ এবং ঐতিহ্যবাহী লেবুর মালা অর্পণের প্রাচীন পরম্পরা। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে ভক্তরা দেবীর চরণে পেড়াঁ ভোগ ও পূজাসামগ্রী নিবেদন করেন। পুরো মন্দির চত্বরজুড়ে ভক্তদের ভক্তিগীতি ও জয়ধ্বনিতে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ভক্তদের বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। পুণ্যার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে দর্শন নিশ্চিত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মন্দির চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়।
ত্রিপুরার উদয়পুরের এই শক্তিপীঠ কেবল রাজ্যেই নয়, সারা দেশের অন্যতম প্রধান ও জাগ্রত তীর্থক্ষেত্র হিসেবে সমাদৃত। বছরভর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রী এখানে আসেন, তবে কৌশিকী অমাবস্যার মতো বিশেষ পুণ্যলগ্নে এই মন্দিরের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।








