প্রগতি ত্রিপুরা, ০১ অক্টোবর, ২০২৬: পুজোর চাঁদার নামে রাস্তায় পণ্যবাহী যানবাহন আটকে টাকা আদায় না করার প্রশাসনিক নির্দেশের মধ্যেই ধর্মনগরে একটি বোলেরো পিকআপ গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, টাকা দিতে অস্বীকার করায় চালককে মারধর এবং গাড়িতে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী গাড়িচালক ফারুক হোসেনের দাবি, অসমের নগাঁও থেকে কাঁচা মরিচ নিয়ে আগরতলার গুলবাজারের উদ্দেশে যাওয়ার পথে রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায় তাঁর গাড়ি আটকানো হয়। গাড়িটির নম্বর AS02EC 4818।
ফারুকের অভিযোগ, চন্দ্রপুর এলাকার একটি স্থানীয় ক্লাবের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পুজোর চাঁদা বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে অন্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এ নিয়ে চালক ও ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁকে মারধর এবং গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফারুক।
দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকে থাকায় গাড়িতে থাকা কাঁচা মরিচ নষ্ট হতে শুরু করে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার পর ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গাড়িচালক।
উল্লেখ্য, পুজোর চাঁদার নামে রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে টাকা আদায় না করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের মধ্যেই এমন অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক নির্দেশের বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে গাড়ি আটকের প্রকৃত কারণ, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত—তা পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
পাশাপাশি, আন্তঃরাজ্য পণ্যবাহী যান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন ধর্মনগর পুলিশের তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।








