প্রগতি ত্রিপুরা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল, ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে অনেকটাই যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে শিক্ষক দিবসের সেই পুরনো আবেগ ও ঐতিহ্য। একসময় শিক্ষক দিবস মানেই ছিল প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের নানা আয়োজন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
তবে ডিজিটাল যুগের এই ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষক দিবসের সেই পুরনো আবেগকে ফিরিয়ে আনলেন গান্ধীগ্রাম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। যাঁরা একসময় তাঁদের হাত ধরে শিক্ষার আলো দেখিয়েছেন, জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার দিশা দেখিয়েছেন এবং সমাজ গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁদের তৈরি করেছেন—সেই সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক-প্রধান শিক্ষিকা সহ অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক এবং গান্ধীগ্রাম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র কৃষ্ণ দাস। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগকে ঘিরে অনুষ্ঠানে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
সংবর্ধনা গ্রহণের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মান তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এমনকি এই সম্মানকে তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের থেকেও বেশি আনন্দ ও গর্বের বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের পুরনো শিক্ষকদের ভুলে যাননি—এই দৃশ্যই যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আজীবনের সম্পর্ক।
ডিজিটাল যুগে যখন শিক্ষক দিবসের উদযাপন অনেকটাই আনুষ্ঠানিক হয়ে উঠছে, তখন গান্ধীগ্রাম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শিক্ষক-শিষ্যের চিরন্তন সম্পর্কের এক অনন্য নজির হয়ে রইল।








