প্রগতি ত্রিপুরা, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: সাম্প্রতিক সমস্ত রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও দূরত্বকে পেছনে ফেলে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে একজোট হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামছে শাসকদল বিজেপি, তিপ্রা মথা এবং আইপিএফটি। শনিবার নতুন দিল্লি থেকে আগরতলায় ফিরে এই যৌথ রাজনৈতিক সমীকরণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির সমস্ত শর্ত নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকারি বাসভবনে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন এবং বিজেপির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়কারী সম্বিত পাত্র।
আগরতলায় পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিল্লি বৈঠকে দুটি প্রধান বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে— প্রথমত, আসন সমঝোতা ও প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে তিন দল মিলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক জোট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
দ্বিতীয়ত, আগামী মাস থেকেই ২০২৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের সময় কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্য কোনো সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করা হবে না। রাজ্যের প্রতিটি জাতি-জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই কাজ এগোবে।
অন্যদিকে, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠনগুলির ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ প্রসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন যেকোনো মুহূর্তে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক টিটিএএডিসি নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন প্রশমনে দিল্লির এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের মুখে জোট অটুট রাখার এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ি অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণকে এক নতুন মাত্রা দেবে।







