প্রগতি ত্রিপুরা, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ধান-রাবার চাষিদের বঞ্চনা দূর করা এবং কৃষি উপকরণের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করার দাবিতে ত্রিপুরা জুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিল সারা ভারত কৃষক সভা। মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত সংগঠনটির ত্রিপুরা রাজ্য শাখার ২২তম রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে এই আন্দোলনের বার্তা দেওয়া হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক কৃষক, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের উপস্থিতি সমাবেশস্থলকে মুখরিত করে তোলে। আগরতলা টাউন হলে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
সমাবেশ থেকে উঠে আসা প্রধান বক্তব্য ও দাবিদাওয়াগুলি: ফসলের ন্যায্য মূল্য ও ইউরিয়া সংকট: সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণাণ তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের ধান ও রাবার চাষিরা মারাত্মক সংকটের মুখে। সরকারি সহায়তার অভাব এবং সার সংকটে উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়ার ফলে প্রান্তিক চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে তিনি দাবি জানান।
গণতান্ত্রিক অবক্ষয় ও শাসকদলের বাধা দেওয়ার অভিযোগ: বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, সমাবেশ ব্যর্থ করতে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি ও যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তারা শাসকদলের নীতিতে ত্যাক্ত-বিরক্ত। তিনি রাজ্যের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধানের মর্যাদা সুরক্ষায় শ্রমিক-কৃষক যৌথ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ভবিষ্যৎ রূপরেখা: সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব কৃষকদের সামগ্রিক আয়বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে আগামী দিনে ধাপে ধাপে আন্দোলন জোরদার করার বার্তা দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক অন্যান্য কর্মসূচির তুলনায় বৃষ্টির মধ্যেও এই সমাবেশে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত বিরোধীদের সাংগঠনিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তবে টাউন হলে আয়োজিত এই সম্মেলন থেকে আগামীর রাজপথের লড়াইয়ের জন্য কী ধরনের সুনির্দিষ্ট কৌশল ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, এখন সেটাই দেখার।








