প্রগতি ত্রিপুরা, ৩১আগস্ট, ২০২৬: শিক্ষার মন্দিরে উন্নয়নের নামে নির্মাণ, আর কয়েক বছর না যেতেই সেই নির্মাণেই বেহাল দশা! নিম্নমানের কাজের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো। ঘটনা, তেলিয়ামুড়া ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে। অভিযোগ, বছর দুয়েক-তিনেক আগে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয় নতুন পাকা ভবন। একইসঙ্গে তৈরি করা হয় বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল। কিন্তু অভিযোগ, নির্মাণকাজের মান এতটাই নিম্নমানের ছিল যে বছর কয়েকের মধ্যেই তার মাশুল গুনতে হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
অল্প বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় সংলগ্ন মাটি ধসে পড়ছে। আর সেই মাটি ধসের জেরে একাধিক অংশে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে পড়ার উপক্রম। কোথাও দেওয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, কোথাও আবার মাটি সরে গিয়ে কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা প্রাচীর। প্রশ্ন উঠছে—যে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব কয়েক বছরও নয়, সেই কাজের মান নিয়ে কি আদৌ নজরদারি ছিল? সরকারি অর্থে তৈরি পরিকাঠামো যদি সামান্য বৃষ্টির ধাক্কাতেই ভেঙে পড়ার মুখে পড়ে, তাহলে সেই নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এটি কোনো সাধারণ জায়গা নয়—এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষজনের নিরাপত্তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পিনাক পানি দেব।
এখন প্রশ্ন একটাই—নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে এর দায় নেবে কে? সরকারি অর্থে নির্মিত এই বাউন্ডারি ওয়াল কেন কয়েক বছরের মধ্যেই ধসে পড়ার মুখে, তার তদন্ত হবে কবে? ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের গুণমান খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে জোরালো ভাবে।








