আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি ট্রাকের বলি হওয়া পরিবার

প্রগতি ত্রিপুরা, ২২ আগস্ট, ২০২৬: পথ দুর্ঘটনা শুধু জীবনই ছিনিয়ে নেয় না, নিমেষের মধ্যে একটি পরিবারকে রাস্তায় বসিয়ে দেয়—তারই এক করুণ নিদর্শন উদয়পুর শহরের নেতাজি সুভাষ ব্রিজ সংলগ্ন এগ্রিকালচার চৌমুহনী এলাকা।

গত ২ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ রাতের পর ছয়টি মাস কেটে গেলেও আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি ঘাতক ট্রাকের বলি হওয়া প্রয়াত সবিতা সাহার পরিবার।

স্বজন হারানোর অন্তহীন যন্ত্রণার সঙ্গে গৃহহীন হয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নিহত বৃদ্ধার ছেলে রাজু সাহা ও তাঁর পরিবার।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ একটি নিয়ন্ত্রণহীন দ্রুতগামী ভারী ট্রাক আচমকা রাস্তা ছেড়ে ঢুকে পড়ে এগ্রিকালচার চৌমুহনীর একটি বসতবাড়িতে। নিমেষের মধ্যে গোটা বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সে সময় ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন প্রায় ৬০ বছর বয়সি বৃদ্ধা সবিতা সাহা। ইট-কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয় তাঁর। উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের অন্য সদস্যদের উদ্ধার করতে পারলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি বৃদ্ধাকে।

ঘটনার খবর পেয়ে তৎকালীন সময়ে পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার কে, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলী রায় এবং মহকুমা শাসক ত্রিদীপ সরকার সহ শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

১০ হাজার টাকায় দায় সারা, মিলেনি স্থায়ী সাহায্যদুর্ঘটনায় মা-কে হারানোর পাশাপাশি মাথার ওপরের একমাত্র আশ্রয়টুকুও হারিয়ে ফেলে পরিবারটি। নিহত বৃদ্ধার ছেলে রাজু সাহা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তরফ থেকে মিলিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার এককালীন সাহায্য পেয়েছিলেন তাঁরা (যার মধ্যে ছিলেন মন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, কিল্লা-বাগমা বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, স্থানীয় প্রধান রিতা ভৌমিক এবং শক্তিকেন্দ্রের ইনচার্জ)। কিন্তু সেই সামান্য অর্থ সাহায্যের পর গত ছয় মাসে আর কোনো স্থায়ী সরকারি সহায়তা বা পুনর্বাসন তাদের কাছে পৌঁছায়নি।

রাস্তার পাশে বাঁশের বেড়ায় দিনযাপন নিজের জমি-বাড়ি হারিয়ে বাধ্য হয়েই অকুস্থলের কাছেই টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি অস্থায়ী ঝুপড়ি তৈরি করেছেন রাজু সাহা।

সেই সংকীর্ণ ঘরেই স্ত্রী, সন্তান ও নাতিকে নিয়ে চরম দৈন্যদশায় রাত কাটাচ্ছেন তিনি। রাজু সাহার কথায়, “প্রতি রাতে এখনও সেই ভয়াবহ স্মৃতির আতঙ্কে কেঁপে উঠি, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে আজ আমরা পথপ্রান্তে বাধ্য হয়ে বসবাস করছি।”

আইনি জটিলতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবর্তমানে দুর্ঘটনা ঘটানো ট্রাকটির বিমা সংস্থার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সরকারের তরফ থেকে কোনো বিকল্প স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা না হওয়ায় চরম অসহায়তার মুখে পড়েছে পরিবারটি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন—দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পরও কেন ছয় মাস ধরে একটি পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হবে?

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবারটিকে স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী