৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭২ ঘণ্টার বনধ ও সড়ক অবরোধের ডাক দিল প্রাক্তন এনএলএফটি ও এটিটিএফ

প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ আগস্ট, ২০২৬: ​ত্রিপুরায় পুনর্বাসন ও আর্থিক প্যাকেজ চালুর দাবিতে ফের তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিল আত্মসমর্পণকারী দুটি প্রাক্তন উগ্রপন্থী সংগঠন। রাজ্য সরকার তাঁদের দাবি পূরণ করছে না—এই অভিযোগে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার রাজ্যব্যাপী বনধ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে প্রাক্তন ‘ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা’ (NLFT) এবং ‘অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স’ (ATTF)।

শুক্রবার আগরতলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই কঠোর সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন আত্মসমর্পণকারী দুই সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। সংবাদ সম্মেলনে প্রাক্তন এনএলএফটি নেতা পরিমল দেববর্মা ও প্রসেনজিৎ দেববর্মা সহ অন্যান্য আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিচুক্তি মেনে বিভিন্ন সময়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের আহবানে তাঁরা হিংসার পথ ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন করেনি। সরকারের এই উদাসীনতার কারণেই তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা জানান, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৭২ ঘণ্টার এই বনধের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথ ও সীমান্ত সংযোগস্থলে ব্যারিকেড গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাবে: আসাম-ত্রিপুরা সংযোগ: চুরাইবাড়ি এলাকায় ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক (আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সড়ক: বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া আগরতলার আখাউড়া রোডেও অবরোধ কর্মসূচি চালানো হবে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথ: রাজ্যের অন্যান্য প্রধান সড়ক ও সংযোগস্থলগুলোতে একই সঙ্গে যানবাহন চলাচল স্তব্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাক্তন এই উগ্রপন্থী নেতাদের হুঁশিয়ারি, চার সেপ্টেম্বরের আগে যদি সরকার তাঁদের দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে ইতিবাচক ও লিখিত কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত ও ব্যাপক আকার ধারণ করবে।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী