বিদ্যুৎ দপ্তরের চূড়ান্ত অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বলি হলেন এক তর তাজা যুবক!

প্রগতি ত্রিপুরা, ২২ আগস্ট, ২০২৬: দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে থাকা ট্রান্সমিটার মেরামত না করার মাশুল গুনতে হলো এক বিদ্যুৎ গ্রাহককে।

মেলাঘর থানাধীন মোহনভোগ আনন্দপুর এলাকায় বিদ্যুৎ দপ্তরের উদাসীনতায় মর্মান্তিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন শ্যামল দেববর্মা (বিবাহিত) নামে এক টমটম চালক।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র আনন্দপুর এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনভোগ আনন্দপুর এলাকার ওই ট্রান্সমিটারটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় ভুগছিল।

এলাকাভিত্তিক নিয়মিত ভোল্টেজ উঠানামা (হাই ও লো ভোল্টেজ)-র কারণে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ দপ্তরকে বারবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয়নি।

নামমাত্র অস্থায়ী সংস্কার করে কাজ চালিয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। ঘটনার সূত্রপাত, এলাকাটিতে টানা লো ভোল্টেজ চলায় পেশায় টমটম চালক শ্যামল দেববর্মা তাঁর ই-রিকশা (টমটম) চার্জ দিতে পারছিলেন না।

রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায়, বাধ্য হয়ে শ্যামল দেববর্মা নিজেই ওই ট্রান্সমিটারের কাছে যান। ট্রান্সমিটারে উঠে ফিউজ লাগানোর চেষ্টা করতেই আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান তিনি।

​বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মেলাঘর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শ্যামল দেববর্মাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

​উপার্জনক্ষম যুবকের এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তোপ—বিদ্যুৎ দপ্তর যদি সঠিক সময়ে ট্রান্সমিটারটি স্থায়ীভাবে মেরামত করত, তবে আজ একজন নির্দোষ টমটম চালককে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী