প্রগতি ত্রিপুরা, ২১ আগস্ট, ২০২৬: রাজ্য মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ প্রদেশ কংগ্রেস। কর্মসংস্থান নীতিতে অস্পষ্টতা এবং স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র (পিআরটিসি) সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের প্রতিবাদে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে তীব্র গণআন্দোলনে নামার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে দল।
শুক্রবার আগরতলাস্থিত প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের নীতি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলেন দলের শীর্ষ মুখপাত্ররা। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি দফতরে শূন্যপদ পূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিগত সাড়ে আট বছরে রাজ্যে বহু পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও মাঝপথে তা স্থগিত হয়ে গেছে।
আবার অনেক ক্ষেত্রে সামান্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় গড়িয়ে যায়। সরকারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী আজ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহিরাগতদের সুবিধার অভিযোগ অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার পিআরটিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ‘বেকারবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দেন প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা।
তিনি অভিযোগ করেন, চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে পিআরটিসি (PRTC)-র পরিবর্তে পাঁচ বছরের স্কুল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটি রাজ্যের মূল অধিবাসীদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার একটি চক্রান্ত। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় কর্মরত অন্যান্য রাজ্যের আধিকারিক এবং শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের সন্তানদের প্রশাসনিক চাকরি পাইয়ে দিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে ত্রিপুরা রাজ্যের যোগ্য বেকার যুবকেরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বহিরাগতরা রাজ্যের সরকারি চাকরি দখল করবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করে যুব কংগ্রেস সভাপতি স্পষ্ট জানান, রাজ্যের যুবসমাজের স্বার্থ রক্ষায় কংগ্রেস নীরব থাকবে না। খুব শীঘ্রই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী ব্যাপক আন্দোলন সূচিত হবে। আগামী দিনে এই আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।








