দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করল আমবাসার মেয়ে অনিতা

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৯ মে, ২০২৬ : অভাব ছিল, সংগ্রাম ছিল, কিন্তু স্বপ্নের সামনে হার মানেনি ধলাই জেলার আমবাসার মেয়ে অনিতা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের জোরে এবার সে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করল জাতীয় মঞ্চে। বিগত মার্চ মাসে মধ্য প্রদেশে অনুষ্ঠিত জুডু প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার হয়ে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে এনে গর্বিত করেছে গোটা রাজ্যকে।

ত্রিপুরা থেকে অংশগ্রহণকারী ১৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে অনিতার এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও সে প্রমাণ করে দিয়েছে, স্বপ্ন সত্যি করতে হলে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম। জানা গেছে, অনিতার পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বড় হওয়া অনিতা আমবাসা কোয়ার্টার এলাকায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তার পিতা গজেন্দ্র ত্রিপুরা বনদপ্তরের একজন অস্থায়ী কর্মী। সংসারের অভাব-অনটনের মাঝেও মেয়ের স্বপ্ন পূরণে পরিবার সবসময় পাশে থেকেছে।অনিতার এই অসাধারণ সাফল্যে তাকে সংবর্ধনা জানায় ২৮ নং আসাম রাইফেল ব্যাটালিয়নের কর্নেল ডি. এইচ. চৌহান। তিনি অনিতাকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও অনিতার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

অনিতার সাফল্যের খবরে খুশির হাওয়া বইছে আমবাসা সহ গোটা ধলাই জেলায়। স্থানীয়দের মতে, দারিদ্র্য কখনও প্রতিভার পথে বাধা হতে পারে না—অনিতা তার জীবন্ত উদাহরণ। আজ সে শুধু একটি পদকই জেতেনি, জিতে নিয়েছে হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর হৃদয়ও। সংগ্রামের পথ পেরিয়ে অনিতার এই জয় যেন নতুন করে শেখায়—“স্বপ্ন যদি সত্যি করার ইচ্ছা থাকে, তবে অভাব কখনও বাধা হতে পারে না।”

Leave a Comment