প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ মে, ২০২৬। একই রাতে আর কে পুর থানার অন্তর্গত চারটি পৃথক এলাকায় সংঘটিত ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গোটা উদয়পুর মহকুমাজুড়ে।
একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, আর কে পুর থানার রাত্রিকালীন পেট্রোলিং ও টহলদারির ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগও নতুন করে সামনে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চুরি, গরু পাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলেও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে টেপানিয়া হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকার কালী মন্দিরে হানা দেয় একদল দুষ্কৃতিকারী। অভিযোগ, একটি মারুতি ভ্যান গাড়ি করে এসে মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে নিয়ে যায় তারা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, একই রাতে উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুষ্কৃতিকারীরা প্রণামী বাক্স ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরপর দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে, ছনবন এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আশীষ দাসের বাড়িতে গভীর রাতে হানা দেয় চোরের দল। অভিযোগ, বাড়ির সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। চুরির পর পাশের বাড়ি মান্নান মিয়ার বাড়িতেও হানা দেয় একই দল। সেখান থেকে দুটি গরু চুরি করে একটি বোলেরো গাড়িতে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে আর কে পুর থানার পুলিশ পৃথক পৃথক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এলাকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, গরু দুটি একটি বোলেরো গাড়িতে তুলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা। পুলিশ ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে।
একই রাতে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় চারটি চুরির ঘটনায় গোটা উদয়পুর মহকুমাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত কয়েক মাস ধরেই এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রহস্যের সমাধান করতে পারেনি পুলিশ। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, পুলিশি টহল ও নজরদারি কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে এলাকাবাসীর একটাই দাবি— দ্রুত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার করে চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হোক এবং রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হোক।







