প্রগতি ত্রিপুরা, ৬ জানুয়ারী, ২০২৫: সিপাহীজলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত করার উদ্যোগে নেওয়া হয়।
এরই মধ্যে বিশ্রামগঞ্জের কয়েকটি এডিসি এলাকার জনগণ সহ তিপ্রা মথা দাবি উত্থাপন করে এডিসি এলাকাকে নিয়ে বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত করা যাবে না।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই এলাকায় ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এতে সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।
তারা দ্রুত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে জেলা শাসক সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল অভিযোগগুলি নাকচ করে জানিয়েছেন, নতুন পঞ্চায়েতের সীমানা রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে এবং কোথাও টিটিএএডিসি-এর জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মঙ্গলবার এই দাবিকে সামনে রেখে সিভিল সোসাইটি সদস্যরা সকাল ৮ টা থেকে বিশ্রামগঞ্জের পুষ্কর বাড়ি এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধে সামিল হয় তিপ্রা মথা।
সড়ক অবরোধকারিদের দাবি এডিসি এলাকাকে নিয়ে বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত করা যাবে না। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ চালিয়ে যাবে।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে প্রথমে বিশালগড় মহকুমার মহকুমা শাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ অন্যান্য আধিকারিকরা অবরোধস্থলে ছুটে যান।
তারা কথা বলেন সড়ক অবরোধকারীদের সাথে। কিন্তু তারা সড়ক অবরোধ মুক্ত করতে ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে সড়ক অবরোধকারীদের সাথে আন্দোলনে সামিল হন তিপ্রা মথার বিধায়ক রণজিৎ দেববর্মা।
পরবর্তী সময় জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপার অবরোধস্থলে ছুটে যান। জেলা শাসক দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধকারীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সড়ক অবরোধকারিরা তাদের দাবিতে অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত জেলা শাসক তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।
বিধায়ক রণজিৎ দেববর্মা জানান এডিসি এলাকাকে নগর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের দাবি মেনে।
স্থানীয় বিধায়ক ও এমডিসিকে কমিটির মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই সড়ক অবরোধ আপাতত প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। সিপাহীজলা জেলার জেলা শাসকের আশ্বাসের পর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হয়। এইদিন দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে জাতীয় সড়কের দুই পাশে আটকে পরে বহু যানবাহন।
ভগান্তির শিকার হতে হয় সাধারন যাত্রীদের। বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এইদিন সড়ক অবরোধের ফলে কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে পৌছাতে পারে নি। সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করার পর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।








