অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের চা শিল্পের সুদীর্ঘ এক ইতিহাস রয়েছে। এ শিল্প রাজ্যের এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিল্প। রাজ্য সরকার ত্রিপুরার চা-এর প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সে লক্ষ্যেই আজ ‘রান ফর টি ২০২৫ দৌড় প্রতিযোগিতা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা আজ বীরচন্দ্র সেন্ট্রাল লাইব্রেরির টি কর্ণারে আয়োজিত ‘রান ফর টি ২০২৫’ দৌড় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে একথা বলেন। ত্রিপুরা চা শিল্প উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের উদ্যোগে এবং টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এই দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, ত্রিপুরার উৎপাদিত চা’কে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে চা শিল্পের উৎপাদন যাতে বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করছে। আগে চা শ্রমিকের মজুরী ছিল ১০৫ টাকা। এখন পায় ২০৪ টাকা। তিনি বলেন, এখন মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ৪ হাজার চা শ্রমিক পরিবারকে ২ গন্ডা করে জমি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্টদেরও দেওয়ার জন্য জেলাশাসকস্তরে প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত ও আত্মনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ভোকাল ফর লোকাল নীতি গ্রহণ করতে হবে। দেশীয় পণ্য ব্যবহার করতে হবে।
দেশীয় পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সবকা সাথ, সবকা বিশ্বাস, সবকা বিকাশ ও সবকা প্রয়াস। আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে কাজ করতে পারলেই শুধু চা-এর উন্নয়ন নয়, আমরা সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাব। নতুন ত্রিপুরা গড়তে পারবো। অনুষ্ঠানে তিনি আত্মনির্ভর ভারত ও ত্রিপুরা গড়তে নেশামুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
সম্মানীয় অতিথির ভাষণে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিছু রায় বলেন, আমাদের রাজ্যের উৎপাদিত চা স্বাদে ও গন্ধে অন্যান্য রাজ্য থেকে কোন অংশে কম নয়। বর্তমানে রাজ্যে চা শিল্পের ব্র্যান্ড রয়েছে। আগামী বছর রাজ্যে চা-এর নিলাম কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে রাজ্যের সকল রেশনশপে ও বিভিন্ন সেন্টারে ত্রিপুরার চা পাওয়া যায়।
এর প্যাকেটিংকে আধুনিক করে ভারতীয় বাজারে বাজারজাত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার উপ অধিকর্তা রমেশ লাল বৈশ্য। সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার,
পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দেব, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা ড. দীপক কুমার, অলিম্পিয়ান পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার, ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রতন সাহা, অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত মন্টু দেবনাথ, ত্রিপুরা রেড ক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান বি কে রায় প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিগণ সবুজ পতাকা নেড়ে পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ৩ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। এতে খেলোয়াড়, ছাত্র ছাত্রী সহ আমজনতা অংশ নেন।
এই দৌড় প্রতিযোগিতা আগরতলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে টি কর্ণারে এসে সমাপ্ত হয়। পুরুষ বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান দখল করে যথাক্রমে সৌরভ হোসেন, তনয় ভৌমিক ও পলাশ দেবনাথ। মহিলা বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান দখল করে যথাক্রমে লক্ষ্মীরাণী ত্রিপুরা, মাম্পি দে এবং দেবলীনা লোধ।
মন্ত্রী ও অতিথিগণ দু’টি বিভাগে বিজয়ী ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানাধিকারীদের হাতে যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা, ৩ হাজার টাকা ও ২ হাজার টাকার চেক ও শংসাপত্র তুলে দেন। এছাড়া দু’টি বিভাগের আরও ১০ জন করে মোট ২০ জনের হাতে ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার তুলে দেন। শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি আগরতলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে।







