সমবায় মেলার উদ্বোধন, সমবায় হলো গ্রামেগঞ্জের গ্রামীণ মানুষের আত্মনির্ভরতা, ন্যায়বিচারের এক বিকল্প পথ : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫: অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি প্রধান পথ হলো সমবায়। সাধারণ মানুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং মানুষের কল্যাণে সমবায় গঠন করা হয়। সমবায় হলো মানুষকে আর্থিকভাবে বিকশিত করার একটা গণ আন্দোলন। এই আন্দোলনকে সবাই মিলে আরও জোরদার করতে হবে। আজ পূর্বাশা মেলা প্রাঙ্গণে সমবায় দপ্তর ও ত্রিপুরা রাজ্য সমবায় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে ৭২তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ উদযাপন ও সমবায় মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমবায় হলো গ্রামেগঞ্জের গ্রামীণ মানুষের আত্মনির্ভরতা, ন্যায়বিচারের এক বিকল্প পথ। সমবায় সমিতিগুলি আর্থসামাজিক মান উন্নয়নের জন্য এবং সমবায় পরিকাঠামো স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রকের পরামর্শক্রমে রাজ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। রাজ্যে প্যাকসগুলিকে কম্পিউটারাইজেশন, বহুমুখীকরণ, মৎস্য, দুগ্ধ সমবায় সমিতি গঠন করা, প্যাকসের মাধ্যমে ই-পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে কমন সার্ভিস সেন্টার চালু করা, সমবায় ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম বিকেন্দ্রীভূত শস্য সংরক্ষণ কেন্দ্র গঠন করা, প্যাকসের মাধ্যমে নতুন কৃষক উৎপাদন সংস্থা গঠন করা সহ আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সমবায়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য।

সরকারিভাবে সমবায়গুলিকে ইনকাম ট্যাক্সের আওতামুক্ত রাখার একটা পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে তিনটি ক্ষেত্রে নতুন মাল্টিস্টেট কো-অপারেটিভ গঠন করা হয়েছে। আত্মনির্ভর ভারতের বাহন হলো সমবায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ক্ষেত্রে সমবায়গুলিকে শক্তিশালী করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। গ্রাম, পাহাড় শহরে বিকশিত ভারত গড়ার জন্য সবাই মিলে সমবায়কে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন পঞ্চায়েতগুলির পাশাপাশি এডিসি এলাকাগুলিতেও আরও বেশি করে সমবায়কে শক্তিশালী করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, সমবায় সপ্তাহে মূল ভাবনাগুলি ও আলোচ্য বিষয়গুলিকে চর্চা করে সমবায়গুলিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। বর্তমানে রাজ্যে পঞ্চায়েত সহ সর্বক্ষেত্রেই সরকার উন্নয়নে জোর দিয়েছে। সমবায়কে শক্তিশালী করার জন্য একটা সমবায় নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যে ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ১,৬৫৬টি নতুন সমবায় গঠন করা হয়েছে। সমবায় সপ্তাহ উদযাপন ও সমবায় মেলাগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন সমবায়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা গড়ে উঠে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমবায়গুলিকে ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট এই লক্ষ্যে চলতে হবে এবং সঠিক বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, হস্ততাঁত, কৃষি, দুগ্ধ, মৎস্যচাষ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রামীণ মানুষের আর্থিক স্বনির্ভরতার একটি মোক্ষম পথ হলো সমবায়। রাজ্যে সমবায়গুলিকে আরও শক্তিশালী করতে সমবায় দপ্তর ৫৪টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন সমবায় দপ্তরের নিয়ামক দশরথ দেববর্মা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমবায় দপ্তরের সচিব তাপস রায়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, সমবায় মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ বিভিন্ন সমবায় সমিতি, ল্যাম্পস, প্যাকসগুলিকে ভালো কাজের জন্য ১০টি ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া ২টি সমবায় সমিতির হাতে মুখ্যমন্ত্রী ৮৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন এবং একটি সমবায় সমিতির হাতে মাইক্রো এটি.এম তুলে দেন। সমবায় সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ৪দিনব্যাপী পূর্বাশা মেলা প্রাঙ্গণে সমবায় মেলা চলবে। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ সমবায় মেলার প্রতিটি স্টল এবং প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

Leave a Comment