প্রগতি ত্রিপুরা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫: সুর সম্রাট শচীন দেববর্মণ ছিলেন ভারতবর্ষের একজন খ্যাতনামা শিল্পী। তিনি ভারতীয় সংগীত জগতে অন্যতম কিংবদন্তী শিল্পী ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। সংগীত সাধনার মাধ্যমে তিনি ত্রিপুরা সহ ভারতবর্ষের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন।
তিনি সুর সাধনার মাধ্যমে ভারতবর্ষ সহ সারা বিশ্বেই সুনাম অর্জন করেছেন। সুর সম্রাট শচীন দেববর্মণ স্মরণে আজ মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সান্ধ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা বলেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, গত ১ অক্টোবর ছিল প্রখ্যাত সুরকার শচীন দেববর্মণের জন্মজয়ন্তী। আজ উনার প্রয়াণ দিবস। এই গুণী ব্যক্তির প্রয়াণ দিবসকে বড় পরিসরে স্মরণ করার জন্যই এই সান্ধ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যতদিন আমরা থাকব, সংগীত জগৎ থাকবে, ততদিন সুর সম্রাট শচীন দেববর্মণ অমর হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, শচীন দেববর্মণ, লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, রাহুল দেববর্মণ তাদের ছেড়ে সংস্কৃতি অধরা থেকে যাবে। তিনি বলেন, শচীন দেববর্মণ লোকগীতি, পল্লীগীতি, আধুনিক গান, অনেক জনপ্রিয় বাংলা গান ভারতবর্ষের জনগণকে উপহার দিয়েছেন।
৫০ থেকে ৭০-এর দশকে তিনি সংগীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে পুরস্কৃত করে। এছাড়াও সংগীত, নাটক একাডেমি সহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। রাজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর প্রতিভাকে খুঁজে এনে এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য দপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই।
আমাদের রাজ্যে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সাথে সমন্বয় রেখে উৎসাহী যুবক-যুবতীদের ফিল্মে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাগত ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, শচীন দেববর্মণ ছিলেন একজন কালজয়ী শিল্পী।
ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম কিংবদন্তী ছিলেন শচীন দেববর্মণ। তিনি বলেন, শচীন দেববর্মণ বাংলা ও হিন্দিতে প্রায় ২০০টি’র মত গান রেকর্ড করেছিলেন। তিনি বলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর নাটক, যাত্রাপালা, সাংস্কৃতিক কর্মশালা, লোকগীতি, পল্লীগীতি সহ মিশ্র সংস্কৃতির বিকাশে উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ত্রিপুরায় শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চা ও প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবছর স্বর্গীয় বারীন দেববর্মণকে মরণোত্তর শচীন দেববর্মণ স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার স্বরূপ তাঁর সহধর্মিনী প্রতিমা দেববর্মণের হাতে অতিথিগণ মানপত্র, শাল, মেমেন্টো ও ২১ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বৈদিক সাংস্কৃতিক শাখার শিল্পীগণ উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া জাতি-জনজাতির শিল্পীগণ সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য ও একক সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে পর্যটন মন্ত্রী সহ অতিথিগণ কুমার শচীন দেববর্মণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
সভাপতির ভাষণে ত্রিপুরা রাজ্য সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, শচীন দেববর্মণ ধ্রুপদী এবং লোকসংগীত সংমিশ্রনে এক অনবদ্য সৃষ্টি করেছিলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।








