প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫। তিন সন্তানের জননীকে, পাষণ্ড স্বামী প্রচন্ডভাবে মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলে।
পরবর্তী সময় ধারালো দা দিয়ে মাথার চুল কেটে বাড়িতে অন্যান্য লোকজনকে দৃশ্য দেখায়। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে বেঁধে রাখার উদ্যত হয়।
তড়িঘড়ি খবর যায় গৃহবধুর বাপের বাড়িতে। খবর পেয়ে ছুটে আসে গৃহবধুর পিতা এবং সঙ্গে অন্যান্য লোকজন। অজ্ঞান অবস্থায় কাঠালিয়া হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যাত্রাপুর থানায় পুলিশের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে পাসন্ড স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে গৃহবধুর পিতা।
এই ঘটনা ১৫ই অক্টোবর সকাল বেলায়। গৃহবধূর নাম শাহানা আক্তার , বয়স ত্রিশ বছর। বাপের বাড়ি যাত্রাপুর থানা এলাকার পূর্ব পাহাড়পুর পঞ্চায়েতে।
গৃহবধুর বাপের নাম জামাল উদ্দিন। অভিযুক্ত স্বামীর নাম জসিম মিয়া। বাড়ি একই থানা এলাকার কাইচ্চা খলা এডিসি ভিলেজ এলাকায়।
প্রকৃত ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১২ বছর আগে বিয়ে হয় সামাজিকভাবে অভিযুক্ত স্বামীর সাথে। বিয়ের কয়েক বছর পরেই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য প্রায়ই মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে।
গৃহবধূর বাবা, জামাইবাবুর মন রক্ষার্থে কয়েক দফা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন জামাইকে। এই সময়ের মধ্যে তিন সন্তানের পিতা-মাতা হয় উভয়ে।তাতেও জামাইয়ের মন রক্ষা হয়নি।
গত দুই বছর ধরে এক লক্ষ টাকা বাপের বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য পাষন্ড স্বামী বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করে মাঝে মাঝে। এইসব জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করে ও গৃহবধূ স্বামীর কাছেই ছেলে সন্তান নিয়ে দিন যাপন করছিল।
কিন্তু, ১৫ ই অক্টোবর সকাল বেলায় কিছু নেশা খেয়ে বাড়িতে এসে অত্যাচার চালায় গৃহবধূর উপর। বেধড়ক মারধর করে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই মহিলা।
এই সময়ে পাষন্ড স্বামী ধারালো দা দিয়ে মাথার চুল কেটে ঘরের বাইরে এসে সবাইকে দেখায়। তখনই বাড়িতে হৈচৈ করে এবং খবরদার গৃহবধুর বাপের বাড়িতে।
জ্ঞান অবস্থায় গাড়িতে করে কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এনে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যাত্রাপুর থানায় পুলিশের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বানটাকে পুলিশের কাছে।
এখনো অমানবিক দৃশ্য ধনপুর বিধানসভা এলাকায় এই প্রথম দেখা গেল। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ এই ঘটনার কতটুকু কিনারা করে।








